
ঢাকাস্থ আহমদীয়া মুসলিম জামা’ত, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করা হয়েছে। বুধবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত ঈদের জামাতে ইমামতি করেন আহমদীয়া মুসলিম জামা’ত, বাংলাদেশের ন্যাশনাল আমীর আলহাজ্জ মাওলানা আব্দুল আউয়াল খান চৌধুরী।
নামাজ শেষে খুতবা পেশ করা হয়। খুতবায় বিশ্ব আহমদীয়া খলীফা প্রদত্ত ২৭ মে’র ঈদুল আজহার খুতবার আলোকে হজরত ইব্রাহিম (আ.), হজরত ইসমাইল (আ.) ও হজরত হাজেরা (আ.)-এর অসাধারণ আত্মত্যাগের তাৎপর্য তুলে ধরা হয়। এ সময় পবিত্র কুরআনের সুরা হজের ৩৭ নম্বর আয়াত তেলাওয়াত করে তার অর্থ ও ব্যাখ্যা উপস্থাপন করা হয়।
খুতবায় বলা হয়, একজন মুমিন কেবল লোক দেখানো বা আনন্দ উদযাপনের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করে না; বরং মহান আত্মত্যাগের স্মৃতিকে ধারণ করেই ঈদ উদযাপন করে। হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও হজরত ইসমাইল (আ.) আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে যে আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, মুমিনরা সেই আদর্শকে স্মরণ করেই কোরবানির ঈদ পালন করে থাকে।
এ সময় আরও বলা হয়, হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর দোয়ার বরকতেই এমন এক মহান জাতিসত্তার সৃষ্টি হয়, যার মধ্য থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমন ঘটে। খুতবায় উল্লেখ করা হয়, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজরত হাজেরা (আ.) ও হজরত ইসমাইল (আ.) পার্থিব জগতের মোহ ত্যাগ করেছিলেন এবং আল্লাহতায়ালা তাদের বংশধরদের মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন।
খুতবায় হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর পরিবারের মহান আদর্শ নিজেদের জীবনে ধারণ করার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, হৃদয়ের পবিত্রতাই প্রকৃত কোরবানি। কেবল গোশত ও রক্ত নয়, বরং অন্তরের পরিশুদ্ধতাই আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য।
মানবসেবার গুরুত্ব তুলে ধরে খুতবায় বলা হয়, প্রকৃত ঈদের আনন্দ তখনই অর্জিত হবে, যখন মানুষ প্রতিবেশী ও অসহায়দের খোঁজখবর নেবে এবং সুখে-দুঃখে তাদের পাশে দাঁড়াবে।
খুতবা শেষে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এতে মুসলিম বিশ্বের ঐক্য, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। পরে মুসল্লিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন আহমদীয়া মুসলিম জামা’তের নেতৃবৃন্দ।
এরপর আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করা হয়। একইভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আহমদীয়া মসজিদগুলোতেও ঈদের জামাত ও কোরবানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।