ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রদল নেতা এস এম শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যা মামলায় বাবা ফখরুল আলম আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
আজ বুধবার তিনি ঢাকার ১৯ তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. মমিনুল ইসলামের আদালতে সাক্ষ্য দেন। তার সাক্ষ্য শেষে আগামী ১৮ নভেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী দিন ঠিক করেছেন আদালত।
আদালতে সাক্ষীর জবানবন্দিতে ফখরুল আলম বলেন, ‘সাম্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্র ছিল। ২০২৫ সালের ১৩ মে রাত সাড়ে ১২টার দিকে আমাদের কাছে ফোন আসে, আমার ছেলে সাম্যকে কিছু সন্ত্রাসী ছুরিকাঘাত করেছে। আমি দ্রুত সিএনসিতে করে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে যাই। মর্গে আমার ছেলের মরদেহ দেখতে পাই। শুনি, রাত সাড়ে ১১ টার দিকে আমার ছেলে ও তার বন্ধু বায়েজিদ, রাফি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খাবার খেতে যায়। সেখান থেকে খেয়ে ফেরার পথে রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্ত মঞ্চের উত্কর পশ্চিম কোনায় পৌঁছালে কতিপয় সন্ত্রাসী আমার ছেলেকে ছুরিঘাত করে মেরে ফেলে।’
জবানবন্দির পর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা শেষ করেন। এ নিয়ে মামলায় তিনজনের সাক্ষ্য শেষ হলো।
গত ৮ অগাস্ট মামলার বাদী সাম্যর বড় ভাই এস এ এম শরীফুল আলম এবং ২৭ সেপ্টেম্বর সাম্যর ক্লাসমেট আশরাফুল আলম রাফি সাক্ষ্য দেন। গত ৩ মে সাত আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরু হয়।
আসামিরা হলেন মেহেদী হাসান, মো. রাব্বি ওরফে কবুতর রাব্বি, মো. রিপন ওরফে আকাশ, নাহিদ হাসান পাপেল, মো. হৃদয় ইসলাম, মো. হারুন অর রশিদ সোহাগ ওরফে লম্বু সোহাগ এবং মো. রবিন। তারা সবাই মাদক কারবারী। তাদের মধ্যে রাব্বি ও হৃদয় পলাতক রয়েছেন। অপর আসামিরা জামিনে আছেন।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতর দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় গত বছরের ১৩ মে রাত ১১টার ছুরিকাঘাতে আহত হন শাহরিয়ার আলম সাম্য (২৫)। রাত ১২টার দিকে রক্তাক্ত অবস্থায় বন্ধুরা সাম্যকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ১৪ মে সকালে নিহতের বড় ভাই শরীফুল ইসলাম শাহবাগ থানায় ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ডিবি পুলিশের রমনা বিভাগের ইন্সপেক্টর মো. আখতার মোর্শেদ গত বছরের ৩০ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাঁজা বিক্রি করতে নিষেধ করার কারণে সাম্যকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র এবং এফ রহমান হল ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক ছিলেন সাম্য।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।