
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় সরকারি মালিকানাধীন ন্যাশনাল টি কোম্পানি (এনটিসি)-এর অধিভুক্ত তেলিয়াপাড়া চা বাগানে আওয়ামী লীগের ট্যাগ ব্যবহার করে নির্বাচিত পঞ্চায়েত কমিটি বাতিল করে নতুন এডহক কমিটি গঠনের অভিযোগ উঠেছে বাগান ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যবস্থাপকের নাম দেওয়ান বাহাউদ্দিন আহমেদ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাগানে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে বলে শ্রমিক ও স্থানীয়দের অভিযোগ।

গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) পঞ্চায়েত কমিটি বাতিল ও ব্যবস্থাপকের এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে নতুন কমিটি গঠনের প্রতিবাদে তেলিয়াপাড়া চা বাগানের শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। শ্রমিকদের দাবি, নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত পূর্বের কমিটি বাতিল করে কোনো ভোট ছাড়াই এডহক কমিটি গঠন করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তেলিয়াপাড়া চা বাগানে পূর্বের পঞ্চায়েত কমিটি বাতিল করে কৃষক লীগ ও শ্রমিক লীগের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে নতুন একটি এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে ওই কমিটির রেজুলেশনে কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ ও তাঁতী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কেউ থাকলে তা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বাতিল করতে হবে—এমন কথা উল্লেখ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তির নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে রাখা হয়েছে হেমন্তী তাতীকে। পাশাপাশি শাজাহানপুর ইউনিয়নের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য সাইমন মুর্মুকে উপদেষ্টা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, কমিটি গঠনের চিঠির অনুলিপি হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার, মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসিকে পাঠানো হলেও এনটিসির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর কোনো প্রমাণ বা ডকেট নম্বর উল্লেখ নেই। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ওই চিঠির অনুলিপি গোপন সূত্রে প্রতিবেদকের হাতে পৌঁছালে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, একজন চা বাগানের ব্যবস্থাপক কীভাবে পঞ্চায়েত কমিটি গঠন করতে পারেন, যেখানে এ ধরনের কমিটি নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হওয়ার বিধান রয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বাগানে দুটি পক্ষের সৃষ্টি হয়েছে এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরই জেরে সোমবার বাগান ব্যবস্থাপকের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে বলে জানা গেছে।
দক্ষিণ মাধবপুর উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বেলাল বলেন, “আওয়ামী লীগ নিধনের নামে ব্যবস্থাপক নিজের সিন্ডিকেটের লোকজন দিয়ে পঞ্চায়েত কমিটি গঠন করেছেন। যে চিঠি ইস্যু করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং বাগানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পথ তৈরি করেছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ব্যবস্থাপক অত্যন্ত অহংকারী এবং হাই-প্রোফাইল রেফারেন্স দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাগানের এক শ্রমিক নেতা জানান, ব্যবস্থাপক প্রায়ই শ্রমিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং সামান্য বিষয়েও আওয়ামী লীগের ট্যাগ ব্যবহার করেন। তিনি ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে গাছ পাচার ও চা পাতা পাচারের অভিযোগও তোলেন।
এ বিষয়ে তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক দেওয়ান বাহাউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “কিছু বিচ্ছিন্ন ও বেকার লোকজন আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে প্রতিবাদ করছে এবং আমার ওপর হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় আমরা আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
তবে পঞ্চায়েত কমিটি ও এডহক কমিটি গঠন সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে সংশ্লিষ্ট শ্রম অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মহব্বত হোসেন বলেন, শ্রমিকদের সঙ্গে সময় লঙ্ঘনসহ যেকোনো বিধিবহির্ভূত কাজের বিষয়ে তারা তদন্ত করতে প্রস্তুত। তেলিয়াপাড়া চা বাগানের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।