
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার কোনাবাড়ী গ্রামে প্রায় দেড় কিলোমিটার একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সড়ক বছরের পর বছর ধরে ফিসারির দখলে পড়ে কার্যত বিলীন হয়ে গেছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে—প্রভাবশালীদের প্রভাব, প্রশাসনিক উদাসীনতা এবং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার কারণে সড়কটি এখন সম্পূর্ণ অচল।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় প্রায় ১২ হাত প্রশস্ত এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ চলাচল করতেন। ধীরে ধীরে সড়কের দুই পাশে ফিসারি তৈরি করা হয়, পরে তা বাড়তে বাড়তে সড়কের ওপরই দখল বিস্তার করে।
বর্তমানে সড়কের অস্তিত্ব সংকুচিত হয়ে মাত্র কয়েক ফুটে নেমে এসেছে, যা কার্যত ফিসারির পাড়ে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের ওপর কলাগাছ লাগানো, ঝোপঝাড় তৈরি এবং পানি জমিয়ে চলাচল প্রায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে—যা পরিকল্পিত দখলের ইঙ্গিত দেয়।
এই সড়কটি কোনাবাড়ী নদীর পাড় থেকে গ্রামের ভেতরে প্রবেশের একমাত্র সংযোগ। আশপাশে কয়েক হাজার মানুষের বসবাস, রয়েছে একটি আলিম মাদ্রাসা, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি ঈদগাহ মাঠ।
কিন্তু সড়কটি অচল হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ প্রতিদিন চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।
স্থানীয়দের দাবি, ২০০৩ সালে এলজিইডির অর্থায়নে প্রায় ২০ ফুট প্রশস্ত একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে সেতুটির দুই পাশে ফিসারি গড়ে ওঠায় সেটিও ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
এটি শুধু দখল নয়, বরং সরকারি সম্পদের অপচয়ের স্পষ্ট উদাহরণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল্লাহ বলেন, “রাস্তা ছিল, এখন নেই। ফিসারি করে সব দখল করে ফেলেছে। আমরা চলবো কীভাবে?”
কৃষক বাবুল মিয়া বলেন, “ফসল বাজারে নিতে পারি না। রাস্তা না থাকায় অনেক সময় পণ্য নষ্ট হয়ে যায়।”
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ইকবাল হোসাইন জানান, “শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী কমে গেছে।”
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক একে এম সাইদুল ইসলাম বলেন, “ছোট শিশুদের জন্য এই পথ অত্যন্ত বিপজ্জনক।”
স্থানীয় এক ব্যক্তি এস এম শাহীন ইসলাম সরকার আংশিক দখলের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, তারা ফিসারির পানি সরিয়ে সড়ক সংস্কারের চেষ্টা করছেন। তবে এতে পরিস্থিতির কোনো বাস্তব উন্নতি হয়নি বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
ইউপি সদস্য মাহবুবুল আলম পল্টন জানান, সড়কটি সরকারি খতিয়ানে ১৮ ফুট প্রশস্ত হিসেবে নথিভুক্ত এবং দখলকারীদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকী বলেন, “বিষয়টি আগে জানা ছিল না। তবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের প্রশ্ন—বছরের পর বছর একটি সরকারি সড়ক দখল হয়ে থাকলেও প্রশাসনের নজরে আসেনি কীভাবে?
তাদের অভিযোগ, প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এই দখলদারিত্ব দীর্ঘদিন ধরে চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।