বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বৃহত্তম ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের অভ্যন্তরীণ সরকারি খালগুলো এখন প্রভাবশালী দখলদারদের থাবায় মৃতপ্রায় অবস্থায় পরিণত হয়েছে। নির্বিচারে খালের পাড় দখল, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক উদাসীনতায় পুরো এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় বর্তমান সরকারের খাল খনন উদ্যোগ চলমান থাকলেও বরিশালের এই গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল ওয়ার্ডটি চরম অবহেলার শিকার হওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এলাকার বিভিন্ন খালের পাড় দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ দোকানপাট ও বহুতল ভবন। কোথাও কোথাও খালের জায়গা সংকুচিত করে ব্যক্তিস্বার্থে অবৈধভাবে ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে একসময়ের প্রশস্ত খালগুলো এখন সরু নালায় পরিণত হয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের বাসাবাড়ির ময়লা পানির লাইন সরাসরি খালের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। নদীর সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে এবং দিনরাত গৃহস্থালির বর্জ্য ও রাসায়নিক মিশে খালের পানি এখন কুচকুচে কালো রঙ ধারণ করেছে, যা রাজধানীর দূষিত বুড়িগঙ্গা নদীর কথা মনে করিয়ে দেয়। এই দূষিত ও পচা পানি থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ, যা স্থানীয় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বরিশাল সিটি কর্পোরেশন গত কয়েক বছরেও এই ওয়ার্ডের খালগুলো পরিষ্কার বা পুনরুদ্ধারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা কচুরিপানা, টগর ও টন টন ময়লা-আবর্জনায় খালের তলদেশ প্রায় ভরাট হয়ে গেছে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অভাবে খালগুলো এখন মশা ও রোগজীবাণুর নিরাপদ প্রজননকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পচা পানি উপচে রাস্তাঘাট ও মানুষের বাড়িঘরে ঢুকে পড়ছে।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশের বিভিন্ন জেলায় নদী ও খাল খনন প্রকল্প অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন শুরু করেছে। ইতোমধ্যে বরিশালের নতুন জেলা প্রশাসকও বিভিন্ন স্থানে খাল খনন কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বৃহত্তম ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের খালগুলো দখলমুক্ত করা কিংবা পুনঃখননের বিষয়ে এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ বা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়নি। এতে স্থানীয় পরিবেশবাদী ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, খাল উদ্ধার কার্যক্রম মোটেও সহজ হবে না। কারণ প্রভাবশালী দখলদাররা খালের বড় অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে। সচেতন মহলের মতে, প্রশাসন আন্তরিকভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপের মুখোমুখি হতে হতে পারে।
তবে আইনি ও সামাজিক জটিলতা যতই থাকুক না কেন, একটি বিস্তীর্ণ অঞ্চলের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার বিকল্প নেই। স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিয়ে ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের সব খাল দখলমুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি বিশেষ প্রকল্পের আওতায় দ্রুত খাল খনন, বর্জ্য অপসারণ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল করতে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন ও জেলা প্রশাসনের জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।