
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জামাই হত্যার দায়ে স্ত্রী ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে দৌলতপুর থানা পুলিশ। মঙ্গলবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং বুধবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের মাজদিয়াড় কান্দিপাড়া গ্রামের হাজী আকবর হোসেনের ছেলে আনিকুল ইসলাম (৩৬) পার্শ্ববর্তী মরিচা ইউনিয়নের বৈরাগীরচর কারিতলা গ্রামের বাদশা মালিথার ছেলে লাবলু রহমানের স্ত্রী আনিকা খাতুনের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে সম্পর্ক গভীর হলে আনিকুল ইসলাম তার প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় আনিকা খাতুনকে গোপনে বিবাহ করেন।
বিষয়টি জানাজানি হলে আনিকুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী রোজিনা খাতুন (২৬) তার পিতার পরিবারের সদস্যদের অবহিত করেন। এরপর আনিকুল ইসলামকে পারিবারিকভাবে গালিমন্দ, শাসন ও হুমকি দিয়ে মানসিক চাপে রাখা হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রথম স্ত্রী তাকে তালাক দিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান।
অভিযোগ রয়েছে, গত ৭ ডিসেম্বর শাশুড়ি পারভিনা খাতুন ও দ্বিতীয় স্ত্রী আনিকা খাতুন আনিকুল ইসলামকে ঘাস মারার বিষ পান করিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ২১ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২৬ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আসলাম উদ্দিন বাদী হয়ে আনিকুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী আনিকা খাতুন, শাশুড়ি পারভিনা খাতুন ও শ্বশুর আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া আদালত-এ একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
এরপর দৌলতপুর থানা পুলিশের একটি দল রাজশাহী বোয়ালিয়া উপজেলার মহানগরী গ্রামের একটি বাড়ি থেকে আনিকা খাতুন ও তার মা পারভিনা খাতুনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, আদালতের নির্দেশে মামলার অভিযুক্ত আনিকা খাতুন ও পারভিনা খাতুনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বুধবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।