চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে গতকাল রবিবারও কর্মবিরতি পালন করেছেন বন্দর শ্রমিকরা। বন্দরে কনটেইনার ও পণ্য পরিবহনকারী যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রেখে বিভিন্ন সেবা ডেস্কে কর্মবিরতির নোটিশ ঝুলিয়ে দেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। এর ফলে টানা দুই দিন চট্টগ্রাম বন্দরে সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রমে অচলাবস্থা দেখা দেয়। এ অবস্থায় আজ সোমবার আবারও ৮ ঘণ্টা কর্মবিরতি ঘোষণা করছে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। সব শ্রমিক সংগঠনকে বন্দর ব্যবহারকারীদের আন্দোলনে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে পরিষদ।
এদিকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে করে গত শনিবার কর্মবিরতি পালন করায় ১১ কর্মচারীকে তাৎক্ষণিকভাবে বদলি করা হয়। বন্দর অচল করার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে একটি কমিটি গঠন করেছে বন্দর প্রশাসন। এ ছাড়া শনিবার মধ্যরাতে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে সিএমপি কমিশনার বন্দর এলাকায়
সভা-সমাবেশ, মিছিল, পথসভাসহ যে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি এক মাসের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।
রমজানকে সামনে রেখে পণ্য আমদানি বাড়ায় কর্মবিরতির কারণে বড় ধরনের সংকট তৈরির আশঙ্কার কথা বলছেন বন্দরসংশ্লিষ্টরা। তবে এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে কর্মবিরতির কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে দাবি করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। ৮ ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করলেও তার আগে-পরে সকল কার্যক্রম দ্রুত করা হচ্ছে। ফলে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত ঘটাবে না। চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক সাংবাদিকদের বলেন, শনিবার কর্মবিরতির মধ্যেও এক হাজার টিইইউ কনটেইনার খালাস হয়েছে। গতকাল রবিবার হয়েছে এক হাজার ৭০০ টিইইউ।
শ্রমিক দলের আন্দোলনের পেছনে বিশেষ মহলের ইন্ধন আছে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে জানিয়ে বন্দর পরিচালক ওমর ফারুক বলেন, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) নিয়ে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের ‘কিছুই করার নেই’। সরকার চুক্তি করলে বন্দর কর্তৃপক্ষ সেটা বাস্তবায়নে বাধ্য। কর্মবিরতির মধ্যেও বন্দরে অপারেশনাল কার্যক্রম চলছে উল্লেখ করে ওমর ফারুক বলেন, আমাদের কার্যক্রম চলমান আছে। ভেতরে সবগুলো জাহাজের কার্যক্রম চলমান আছে। ইয়ার্ডের কার্যক্রমও চলমান। ডেলিভারির গাড়ি সকালের দিকে স্বাভাবিকভাবেই একটু কম প্রবেশ করে। বিকাল থেকে ডেলিভারি কার্যক্রম বাড়ে। আমাদের চট্টগ্রাম পোর্টে যারা আছেন, তারা সাত দিন ২৪ ঘণ্টা এখানে কাজ করেন। সব জায়গায় আমাদের লোকজন আছে। কেউ যদি বাইরে অপপ্রচার করে যে লোক নেই, কাজ নেই, ভেতরে যাবেন না, এগুলোতে কান না দেওয়ার জন্য আমরা অনুরোধ জানাব।
চট্টগ্রাম বন্দরের লাভজনক প্রতিষ্ঠান এনসিটি আরব-আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে গত শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ ছিল। গতকাল দ্বিতীয় দিনে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী সাবেক সিবিএ অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধের পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমও বন্ধের ডাক দেয়।
জানা গেছে, সকাল ৮টা থেকে ঘোষিত কর্মসূচি শুরু হয়। তবে বন্দর ভবনে প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল ছিল। কর্মচারীদের অধিকাংশই অফিসে হাজিরা দিলেও দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকেন। এ ছাড়া বন্দরের কর্মচারী ও বন্দরে নিয়োজিত বেসরকারি শ্রমিকরা কেউ কাজে যোগ দেননি। এর ফলে বন্দরের তিনটি টার্মিনাল জিসিবি, সিসিটি ও এনসিটিতে অপারেশাল কার্যক্রম অনেকটাই বন্ধ হয়ে যায়। তিন টার্মিনালে জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর কার্যক্রমে প্রায় অচলাবস্থা তৈরি হয়। কনটেইনার টার্মিনালগুলোতে যন্ত্রপাতির অপারেটররাও কাজে যোগ দেননি।
চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খোকন বলেন, শ্রমিক-কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মবিরতি পালন করছেন। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ধর্মঘট ঠেকাতে হয়রানি শুরু করেছে। পুলিশও দমন-পীড়নের আশ্রয় নিয়েছে। হয়রানি বন্ধ না করলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাব। আজ সোমবার আরও ৮ ঘণ্টার কর্মবিরতি আহ্বান করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সুরাহা না করলে আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবীর আমাদের সময়কে বলেন, দুই দিনের আন্দোলন-সংগ্রামের পরও কর্তৃপক্ষ বা সরকার আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি। বরং কর্তৃপক্ষ আন্দোলনরত শ্রমিক নেতাদের চট্টগ্রাম থেকে কেরানীগঞ্জের পানগাঁও আইসিটিতে বদলি ও স্ট্যান্ড রিলিজ করে দিচ্ছে। এতে করে আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।