
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীর ওপর সেতু না থাকায় প্রায় ২২ গ্রামের হাজার-হাজার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন জনপ্রতিনিধির আশ্বাস মিললেও বাস্তবে নির্মাণ হয়নি কাঙ্ক্ষিত সেতু। ফলে প্রতিদিন নদী পারাপারে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক ও কর্মজীবী মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকটি প্লাস্টিকের ড্রাম একত্র করে তার ওপর কাঠের তক্তা বসিয়ে তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী ভাসমান বোট। দড়ি ধরে টেনে টেনে নদীর এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে পার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়, তখন বাড়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোহনগঞ্জের পাথরকাটা ও সহিলদেও মেদিপাথরকাটা গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ধলাই নদীটি আশপাশের অন্তত ২২টি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম। খান বাহাদুর কবির উদ্দিন খান উচ্চ বিদ্যালয়, সহিলদেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, বাজার, ব্যাংক, হাসপাতাল ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হলে এই নদী পার হতে হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচনের সময় সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পরে আর কোনো অগ্রগতি দেখা যায় না। বছরের পর বছর অপেক্ষার পরও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় হতাশা বাড়ছে মানুষের মধ্যে।
উতিয়ারকোণা গ্রামের মো. পারভেজ খান, মেদিপাথরকাটা গ্রামের আব্দুল মালেক খান ও হালিম খান, পাথরকাটা গ্রামের মো. জাহান খান ও মো. হলুদ খান বলেন, ধলাই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ হলে দুই পাড়ের মানুষের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আসবে। এতে কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে।
খান বাহাদুর কবির উদ্দিন খান উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাবিবা আক্তার, নাভা আক্তার ও মিনার আক্তার জানান, শুষ্ক মৌসুমে কিছুটা কষ্ট হলেও যাতায়াত করা যায়। তবে বর্ষাকালে ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হয়, যা খুবই ভোগান্তির।
কৃষক হাবিব মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, “অনেক আগে ইঞ্জিনিয়ার অফিসের লোকজন এসে মাপ নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এখনো সেতুর কাজ শুরু হয়নি।”
খান বাহাদুর কবির উদ্দিন খান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মৌলা বলেন, “সেতুটি নির্মাণ হলে শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত নিরাপদ ও সহজ হবে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহনও সহজ হবে এবং কৃষকরা উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবেন।”
মোহনগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী ইকরামুল হোসেন বলেন, “সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আমি নিজেও স্থানটি পরিদর্শন করেছি। অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।”
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।