নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় কুকুর জবাই করে ‘খাসির মাংস’ হিসেবে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে আনুমানিক ২৫ কেজি মাংস, একটি জবাই করা কুকুরের মাথা ও চামড়া জব্দ করেছে পুলিশ। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার মঙ্গলবাড়ী বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নেংড়াপীর–ইসবপুর সড়কের তেতুলতলী মোড়ে দীর্ঘদিন ধরে খাসির মাংস বিক্রি করতেন স্থানীয় কসাই এনতাজুল ও তার সহযোগী দুলু মৌলভী। তারা প্রতিদিন ভোরে বাড়ি থেকে মাংস এনে বাজারে বিক্রি করতেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রোববার সকালে এনতাজুলের বাড়ির পাশে সন্দেহজনকভাবে একটি কুকুর ধরে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য কয়েকজন গ্রামবাসীর নজরে আসে। কিছুক্ষণ পর সেখানে জবাইয়ের আলামত দেখতে পেয়ে তাদের সন্দেহ হয়। বিষয়টি দ্রুত বাজারে ছড়িয়ে পড়লে কয়েকজন ব্যক্তি দোকানে গিয়ে মাংস পরীক্ষা করতে চাইলে অভিযুক্তের আচরণে অসংলগ্নতা দেখা যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দোকানের আশপাশে তল্লাশি চালিয়ে জবাই করা কুকুরের মাথা ও চামড়া পাওয়া যায়। খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ বাজারে ভিড় করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অভিযুক্ত দুই কসাই দোকানে থাকা মাংস ফেলে পালিয়ে যান।
খবর পেয়ে ধামইরহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ জানায়, জবাই করা কুকুরের মাথা, চামড়া এবং আনুমানিক ২৫ কেজি মাংস জব্দ করা হয়েছে। আলামত সংরক্ষণ করে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান বলেন, “ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত চলছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” জনরোষ এড়াতে বাজার এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। উদ্ধার করা মাংস অপসারণ ও ধ্বংসের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।”
ঘটনার পর বাজার ও আশপাশের এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।