
নওগাঁর মান্দা উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নে কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরাদ্দ চারটি প্রকল্পের মোট ৩০.৫ মেট্রিক টন চাল আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পগুলোর কাজ কাগজে-কলমে সম্পন্ন দেখানো হয়েছে। তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রকল্প এলাকাগুলোতে কোথাও উল্লেখযোগ্য কোনো কাজ করা হয়নি। কিছু স্থানে সামান্য মাটি ফেলে পুরো কাজ শেষ দেখানো হয়েছে, আবার একটি প্রকল্পে একেবারেই কোনো কাজ করা হয়নি।
অভিযোগ ওঠা প্রকল্পগুলো হলো—
বনগ্রাম দুলালের বাড়ি থেকে আতাউরের পাইকড়ের গাছ পর্যন্ত সড়ক (৫.৫ মেট্রিক টন),
চকরামাকান্ত পাকা সড়ক থেকে আব্বাসের বাড়ির সড়ক (৯ মেট্রিক টন),
চকমানিক মসজিদ থেকে সোহবারের বাড়ির সড়ক (৭ মেট্রিক টন),
চকগৌরী সেতু থেকে আতাউরের বাগান অভিমুখী সড়ক (৯ মেট্রিক টন)।
সরকারি হিসাবে প্রতি মেট্রিক টন চালের মূল্য ধরা হয়েছে ৪৯ হাজার টাকা। সে অনুযায়ী আত্মসাৎকৃত ৩০.৫ মেট্রিক টন চালের বাজারমূল্য দাঁড়ায় ১৪ লাখ ৯৪ হাজার ৫০০ টাকা।
চকগৌরী গ্রামের এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “মাত্র একদিন কয়েকজন শ্রমিক দিয়ে সামান্য কাজ করানো হয়েছে। এভাবেই সরকারের লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে। অথচ গ্রামের রাস্তাগুলো বছরের পর বছর অবহেলায় পড়ে আছে।”
প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, “আমাকে নামমাত্র সভাপতি করা হয়েছে। প্রকল্পের সবকিছু দেখভাল করেন ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম বাবু ও ইউপি সদস্য মনসুর রহমান। প্রকল্প কত টনের, সেটাও আমাদের জানানো হয় না। শুধু কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়।”
আরেক প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি তানজিলা খাতুন বলেন, “প্রকল্প সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই। সবকিছু মনসুর মেম্বারই করেন।”
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মনসুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার অযুহাত দেখিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আরিফুল ইসলামও ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।