
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে নামাজের সময় মাইকে উচ্চস্বরে গান বাজাতে নিষেধ করায় এক মাদ্রাসাশিক্ষক ও মসজিদের সাবেক ইমামকে রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সাইফুর রহমান ঢালীর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করা হয়েছে। হামলায় ওই শিক্ষকের ডান চোখে গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২৯ মে) মাগরিবের নামাজের সময় গফরগাঁও উপজেলার পুখুরিয়া এলাকায় একটি মেলা উপলক্ষে উচ্চস্বরে গান বাজানো হচ্ছিল। এ সময় পুখুরিয়া হুদা মহিউসসুন্নাহ মাদ্রাসার শিক্ষক ও মসজিদের সাবেক ইমাম মাওলানা ইউসুফ আলী গান বন্ধ করতে বা শব্দ কমাতে অনুরোধ করলে স্থানীয় সাইফুর রহমান ঢালী তাকে রড দিয়ে আঘাত করেন। এতে তাঁর ডান চোখ ও মাথায় গুরুতর জখম হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শুক্রবার রাতেই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগে ভর্তি করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইউসুফ আলী বলেন, “ফরজ নামাজ শেষে বাইরে এসে বলেছিলাম, নামাজ শেষ হলে গান বাজান, তবে শব্দ কমিয়ে। উচ্চস্বরে গান বাজালে মুসল্লিদের নামাজে ব্যাঘাত ঘটে। এ কথা বলার পরই সাইফুর রহমান পাশের একটি দোকান থেকে রড এনে আমার চোখে আঘাত করে। পরে মাথাতেও আঘাত করে। একপর্যায়ে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই।”
তিনি আরও দাবি করেন, হামলাকারী তাঁর চোখ উপড়ে ফেলারও চেষ্টা করেন। বর্তমানে তিনি ডান চোখে দেখতে পাচ্ছেন না বলে জানান।
ইউসুফ আলীর ছোট ভাই ইউনুস আলী বলেন, “আমার বড় ভাই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁর চার সন্তান রয়েছে। চোখে স্থায়ী ক্ষতি হলে পুরো পরিবার চরম সংকটে পড়বে। আমরা দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী হুরমুজ আলী বলেন, “মাওলানা ইউসুফ আলী একজন সৎ, ভদ্র ও সম্মানিত মানুষ। তিনি শিক্ষকতা ও ইমামতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর ওপর এমন হামলার ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ। হামলাকারীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা উচিত।”
ঘটনার পর অভিযুক্ত সাইফুর রহমান এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। তবে তাঁর বড় ভাই সাইদুর রহমান ঢালীও ঘটনার বিচার দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “সে যা করেছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের পরিবারও এ ঘটনার সুষ্ঠু ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চায়।”
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের প্রধান ডা. ফয়সাল কাদের শাহ চৌধুরী বলেন, “রডের আঘাতে রোগীর চোখের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে চোখটি স্থায়ীভাবে নষ্ট হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চোখের ওপরের ও নিচের পাতা পুনঃস্থাপনের চেষ্টা করা হবে। এরপর ভেতরের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা মূল্যায়ন করা হবে।”
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত বর্তমানে পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।