সুদের টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের গাছা এলাকায় প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে এক নারী ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে মামলার প্রধান আসামি সাবেক ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহত রানু বেগম (৪০) ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানার মাইজবাগ গ্রামের মো. হিরোনের স্ত্রী। তিনি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পশ্চিম কলেমেশ্বর এলাকায় ভাড়ায় বসবাস করে স্থানীয় দুলাল মার্কেটের ‘রানী ফ্যাশন গ্যালারি’ নামে একটি কাপড়ের দোকানের মালিক ছিলেন।
গ্রেপ্তার যুবক হলেন গাছা থানাধীন বাদে কলমেশ্বর এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে আশিক ইসলাম ওরফে স্বপন (২৭)। তিনি গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের গাছা থানা ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
রোববার (১ জানুয়ারি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রানু বেগম কাপড়ের ব্যবসার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সুদের ভিত্তিতে টাকা লেনদেন করতেন। পাওনা টাকা নিয়ে একই এলাকার মুদি দোকানদার নজরুল ইসলাম ও তার ছেলে আশিকের সঙ্গে রানুর বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জের ধরে শনিবার সকাল ৮টার দিকে আশিকের বাবা নজরুল ইসলামকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে। তারই জের ধরে আশিক ক্ষিপ্ত হয়ে ছুরি দিয়ে রানু বেগমের ওপর হামলা চালায়। এসময়ে তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে।
এ সময় রানুর ছেলে হৃদয় মিয়া ও ওসমান হোসেন এগিয়ে আসলে তাদেরকেও ছুরিকাঘাত করে আশিক পালিয়ে যায়। আশপাশের লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় মা-ছেলেকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে রানু বেগমের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ওই হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় শনিবার রাতেই নিহতের ছেলে হৃদয় হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রাত ২টার দিকে ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে প্রধান আসামি সাবেক ছাত্রদল নেতা আশিক ইসলাম স্বপনকে গ্রেপ্তার করে।
গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রোহানুজ্জামান শুক্কুর বলেন, ‘আমরা কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দিই না। আশিক যদি অপরাধ করে থাকে, তাহলে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। সে বর্তমানে সংগঠনের কোনো কার্যক্রমে যুক্ত নয়।’
গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চলমান রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।