নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহারান মামদানি ঘোষণা করেছেন, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের জন্য শহরের পাঁচটি বরোর বাসিন্দাদের জন্য বিশেষভাবে নতুন একটি টিকিট বরাদ্দ চালু করা হবে। প্রতি টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ মার্কিন ডলার।
এই টিকিটগুলো লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত বাসিন্দাদের দেওয়া হবে এবং এগুলো নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলোর জন্য প্রযোজ্য হবে। তবে ফাইনাল ম্যাচ এই তালিকার বাইরে থাকবে। টিকিটের সঙ্গে স্টেডিয়ামে যাতায়াতের জন্য বাস পরিবহন সুবিধাও থাকবে।
এই কর্মসূচির আওতায় মোট ১,০০০টি টিকিট দেওয়া হবে। প্রতিটি সাতটি ম্যাচের জন্য প্রায় ১৫০টি করে টিকিট বরাদ্দ থাকবে। এসব আসন থাকবে ৮২ হাজার ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামের উপরের অংশে।
যে ম্যাচগুলো এই উদ্যোগের আওতায় থাকবে তার মধ্যে রয়েছে পাঁচটি গ্রুপ পর্বের ম্যাচ এবং দুটি নকআউট ম্যাচ। উল্লেখযোগ্য ম্যাচগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রাজিল বনাম মরক্কো, ফ্রান্স বনাম সেনেগাল, নরওয়ে বনাম সেনেগাল, ইকুয়েডর বনাম জার্মানি এবং পানামা বনাম ইংল্যান্ড।
এছাড়া ৩০ জুনের রাউন্ড অব ৩২ এবং ৫ জুলাইয়ের রাউন্ড অব ১৬ ম্যাচও এই তালিকায় রয়েছে।
এই পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয় হারলেমের লিটল সেনেগাল এলাকায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় কমিউনিটি নেতা এবং যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের দুই ফুটবলার টিম উইয়া ও মার্ক ম্যাকেঞ্জি, যারা নিউইয়র্কেরই বাসিন্দা।
এই উদ্যোগটি প্রথমবারের মতো কোনো বিশ্বকাপ আয়োজক শহরের নিজস্ব বাসিন্দাদের জন্য আলাদা টিকিট সুবিধা দেওয়ার ঘটনা। এর আগে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে স্থানীয়দের জন্য কিছু বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছিল।
টিকিটের জন্য লটারি ২৫ মে সকাল ১০টায় শুরু হবে এবং ৩০ মে বিকেল ৫টায় শেষ হবে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫০ হাজার আবেদন করা যাবে। বিজয়ীরা সর্বোচ্চ দুটি টিকিট কিনতে পারবেন। টিকিট ম্যাচের দিনেই প্রদান করা হবে এবং এগুলো হস্তান্তরযোগ্য নয়।
এই উদ্যোগটি নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি বিশ্বকাপ আয়োজক কমিটি ও মেয়রের দফতরের যৌথ উদ্যোগ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা সরাসরি এতে যুক্ত নয়; টিকিট বিক্রির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই রয়েছে এবং তারা গতিশীল মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ব্যবহার করছে।
বিশ্বকাপ টিকিটের দাম নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক চলছে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সি অঞ্চলে যাতায়াত খরচও বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।
নিউ জার্সি ট্রানজিট প্রথমে জানিয়েছিল, নিউইয়র্কের পেন স্টেশন থেকে স্টেডিয়ামে রাউন্ড ট্রিপ টিকিটের দাম ১৫০ ডলার হতে পারে, যা সাধারণত মাত্র ১৩ ডলার। পরে সেই দাম কমিয়ে ১০৫ ডলার করা হয়। বাস ভাড়াও প্রায় ৮০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে ফিফা সীমিত সংখ্যক ৬০ ডলারের টিকিট ছেড়েছিল, যা মোট টিকিটের প্রায় ১.৬ শতাংশ। তবে অধিকাংশ টিকিটের দাম গতিশীল মূল্যনীতির কারণে কয়েকশ ডলারে পৌঁছে গেছে।
মেয়র মামদানি, যিনি ফুটবলের ভক্ত এবং তার নির্বাচনী প্রচারে সাশ্রয়ী মূল্যের বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছিলেন, তিনি ফিফার এই মূল্যনীতির সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, ‘যারা সত্যিই এই খেলাকে ভালোবাসে, তাদের অনেকেই খেলা দেখার সুযোগ পাচ্ছে না। এতে বিশ্বকাপের পরিবেশ ও দর্শক উপস্থিতি দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ অনেক সময় টিকিট যারা দ্রুত পায়, তারা সত্যিকারের দর্শক নয়, বরং যারা মুনাফার সুযোগ খোঁজে।’
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।