নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ঝিনাইদহের ভোটের মাঠে বাড়ছে উৎকণ্ঠা। প্রার্থীদের আশঙ্কা, অবৈধ অস্ত্রের উপস্থিতি যেকোনো সময় ভোটের পরিবেশকে সহিংস করে তুলতে পারে। নির্বাচনী এলাকায় অস্ত্র প্রদর্শন, গোপনে অস্ত্র মজুদ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ দিন দিন বাড়ছে। এতে শুধু প্রার্থীরাই নন, সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। সম্প্রতি একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রার্থীরা অভিযোগ করছেন, নির্বাচনী প্রচারণা ও গণসংযোগে নামলেই অচেনা লোকজনের আনাগোনা চোখে পড়ছে। কোথাও কোথাও অস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে দাবি তাঁদের। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর প্রচারণা চালাতে গিয়ে অনিরাপত্তা বোধ করছেন অনেক প্রার্থী ও তাঁদের কর্মীরা। পোস্টার-ব্যানার ছেঁড়া, মাইকিংয়ে বাধা এবং পথসভায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পেছনে অস্ত্রধারী চক্র সক্রিয় রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ভোটারদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ কেউ বলছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে তাঁরা নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন। আবার অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এভাবে অস্ত্রের ভয়ভীতি অব্যাহত থাকলে ভোটকেন্দ্রে যেতেই সাহস পাবেন না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা কেবল ভোটের দিনেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। প্রচারণা শুরুর মুহূর্ত থেকেই অস্ত্র উদ্ধারে সমন্বিত অভিযান ও অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি ছিল। একই সঙ্গে ভোটারদের আস্থা ফেরাতে প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তাঁরা।
এদিকে সম্প্রতি জেলার কোটচাঁদপুর ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।
সূত্র জানায়, ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাবশালী গোষ্ঠীর ছত্রচ্ছায়ায় অবৈধ অস্ত্রের দাপট রয়েছে। নির্বাচনের সময় এসব অস্ত্র ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হতে পারে—এমন আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ভোটের দিন কেন্দ্র দখল, জাল ভোট কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শিবিরকে ভয় দেখানোর মতো ঘটনার আশঙ্কাও করছেন অনেকে।
ঝিনাইদহ-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী রাশেদ খাঁন বলেন, “নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিপক্ষরা অবৈধ অস্ত্র মজুদ করে রেখেছে, যা ভোটের দিন ব্যবহার করা হতে পারে। এতে আমার সমর্থক ও ভোটাররা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। প্রশাসনের উচিত এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি করা।”
ঝিনাইদহ-২ আসনের জামায়াত প্রার্থী আলী আজম মো. আবু বকর বলেন, “আমাদের প্রতিপক্ষরা অবৈধ অস্ত্র মজুদ করেছে। তারা এখনই ভোটারদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। শোনা যাচ্ছে, এসব অস্ত্র ব্যবহার করে ভোটের দিন ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা করা হবে।”
জেলা সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি আনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন,“দেশের চলমান পরিস্থিতিতে অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান আরও কঠোরভাবে পরিচালনা করা প্রয়োজন। দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।”
এ বিষয়ে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, “অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। টহল জোরদার, চেকপোস্ট স্থাপন এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান চলছে।”
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের আগে ও পরবর্তী সময়েও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমরা আশা করছি, এ জেলার মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবে।”
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।