
নেত্রকোনা শহর ও আশপাশের গ্রামাঞ্চলে মাদকপাচার ও কিশোর গ্যাং-এর কার্যক্রম ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ইয়াবা, হেরোইন, গাঁজা ও ফেনসিডিলসহ সব ধরনের মাদক সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শহরের একাধিক চিহ্নিত এলাকা এখন মাদক ব্যবসায়ীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, শহরের রাজুর বাজার, সুইপার কলনী ও ঢাকা বাস টার্মিনাল দীর্ঘদিন ধরে মাদক আখড়া হিসেবে পরিচিত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বেড়লেও, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মাদক বেচাকেনা গোপনভাবে চলছেই। মাদক সরবরাহের কারণে কিশোর ও তরুণরা এই চক্রে জড়িয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছে। কিশোর গ্যাং-এর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয়দের মতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর মাদক ব্যবসা আরও সক্রিয় হয়েছে। পুরনো চক্রগুলো এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে। পুলিশ মাঝেমধ্যেই অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করলেও চক্র ভেঙে পড়েনি। এছাড়া ব্যবসায়ীদের রাজনৈতিক আশ্রয় ও সহায়তার কারণে মাদক কারবার নির্মূলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
নেত্রকোনা জেলা পুলিশ সুপার মোঃ তরিকুল ইসলাম বলেন, জেলা পুলিশ মাদক নির্মূলে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। চিহ্নিত স্থানে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, মাদক ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে প্রশাসনের পদক্ষেপ আরও জোরদার হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে রাজনৈতিক আশ্রয় বন্ধ না করলে অপরাধের চক্র থামানো যাবে না।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।