নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় অঙ্কিত বর্মন (৩) নামে এক শিশুকে হত্যার ঘটনায় চাচি ফুলরানি বর্মণ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় চাচা-চাচিসহ চারজনকে আটক করে পরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে গত ১ এপ্রিল আদালতে স্বীকারোক্তি দেন ফুলরানি বর্মণ (৪২)।
পুলিশ জানায়, স্বীকারোক্তিতে ফুলরানি বর্মণ জানান, তার সন্তানের সঙ্গে অঙ্কিতের ঝগড়া হয়। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে শিশুটিকে পাশের একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত অঙ্কিতের বাবা সাগর বর্মন ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত। তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঢাকায় থাকতেন। কিছুদিন আগে অঙ্কিতকে নিয়ে তার দাদি গ্রামের বাড়ি বরান্তর গ্রামে যান।
গত সোমবার দুপুরে অঙ্কিত বাড়ির উঠানে খেলছিল। এ সময় তার দাদি পাশের বাড়িতে গেলে শিশুটি নিখোঁজ হয়। পরে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে পাশের একটি ঘর থেকে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করে।
আটকরা হলেন— অঙ্কিতের চাচা রাজন চন্দ্র বর্মণ (২৮), চাচি ফুলরানি বর্মণ (৪২), আত্মীয় সুকুমার বর্মণ (৫৪) ও তার স্ত্রী মায়ারানি বর্মণ (৪৫)।
পরে জিজ্ঞাসাবাদে ফুলরানি বর্মণ হত্যার দায় স্বীকার করেন। ঘটনার পরদিন অঙ্কিতের বাবা বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মোহনগঞ্জ থানার ওসি হাফিজুল ইসলাম বলেন, “আদালতের নির্দেশে চারজনকেই কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।”
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।