রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় পরিবেশ, কৃষি ও স্বাস্থ্যের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তিস্তা নদীর তীরে প্রতি বছরই ব্যাপকভাবে তামাক চাষ করা হচ্ছে। চাষীরা তামাকের দিকে ঝুঁকায় সাধারণ ফসলের জমি কমছে এবং উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে।
গঙ্গাচড়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছর প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়েছে। তবে স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, এ বছর আগের চেয়ে আরও বেশি জমিতে তামাক চাষ হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার গঙ্গাচড়া, গজঘন্টা, লক্ষ্মীটারী, মর্ণেয়া, কোলকোন্দ, বড়বিল, বেতগাড়ী ও আলমবিদিত নোহালীসহ বিভিন্ন স্থানে সমকালীন ফসলের পাশে তামাকের চাষ অব্যাহত। ক্ষেতগুলোতে আগাছা ও পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। তামাক শুকানোর জন্য রশিতে ঝুলিয়ে ও চুল্লি তৈরি করা হচ্ছে।
চাষীরা জানিয়েছেন, ধান বা অন্যান্য ফসল চাষ করলেও ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। তাই তারা তামাকের চাষ করছেন, যা তুলনামূলকভাবে লাভজনক। শংকরদহ গ্রামের যাদু মিয়া বলেন, “তামাকের দাম বেশি এবং খরচও কম। তাই এক একর জমিতে চাষ করি।”
অন্য চাষি শহিদুল ইসলাম জানান, “আমরা ৭ বিঘা জমিতে বাল্লি, মতিহার ও ডিবি তামাক চাষ করছি। এক বিঘা জমিতে খরচ হয় ২০ হাজার টাকা, আর বিক্রি থেকে আয় হয় ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকা। কোম্পানি চাষের জন্য ৪ হাজার টাকা ও সার ও কীটনাশক দেয়, যা বিক্রির সময় কেটে নেয়।”
উপজেলা কৃষি অফিসার রুবেল হোসেন বলেন, “কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে কৃষকদের তামাক চাষের ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরে চাষে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তারপরও অনেক কৃষক লাভের আশায় তামাক চাষ করছেন।”
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই ধরণের চাষ পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ এবং দীর্ঘমেয়াদে কৃষি উৎপাদন হ্রাস করতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।