বলিউডে ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই অভিনেতা পুলকিত সম্রাটের কাছে সালমান খান ছিলেন একজন অনুপ্রেরণার নাম। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, প্রথম সিনেমা মুক্তির আগে সালমানের দেওয়া একটি পরামর্শ আজও তার জীবনের অন্যতম বড় শিক্ষা হয়ে রয়েছে।
বর্তমানে সালমান খানের ক্যারিয়ারে কিছুটা কঠিন সময় চলছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি সিনেমা বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। পাশাপাশি শারীরিক নানা জটিলতা এবং ভারতের গ্যাংস্টার লরেন্স বিশ্নোইয়ের হুমকিও তাকে বারবার আলোচনায় এনেছে। তবে একসময় বলিউডে তার প্রভাব ও জনপ্রিয়তা ছিল শীর্ষে।
পুলকিত জানান, ২০১২ সালে তার অভিষেক চলচ্চিত্র ‘বিট্টু বস’ মুক্তির আগে তিনি দারুণ দুশ্চিন্তায় ছিলেন। দর্শক তার অভিনয় কীভাবে গ্রহণ করবেন, তা নিয়ে উদ্বেগে ভুগছিলেন। ঠিক সেই সময় তাকে মানসিকভাবে সাহস জোগান সালমান খান।
পুলকিতের ভাষ্যমতে, সালমান তাকে বলেছিলেন, ‘আমি হলাম সালমান খান। পরের শুক্রবার নিয়ে আমারও কোনও নিশ্চয়তা নেই। আমার পরের ছবি ভাল হবে, এমন নিশ্চয়তা আমার কাছেও নেই। তা হলে তুমিই বা নিজেকে কী মনে করছ? এত চিন্তা করে তুমি কী পাবে?”
আমি সালমান খান হয়েও জানি না আগামী শুক্রবার আমার সিনেমার কী হবে। আমার পরের ছবি সফল হবে, এমন নিশ্চয়তা আমারও নেই। তাহলে তুমি এত ভয় পাচ্ছ কেন?’
এই কথাগুলোই তার মানসিকতা বদলে দেয় বলে জানান পুলকিত। তিনি উপলব্ধি করেন, চলচ্চিত্রের সাফল্য বা ব্যর্থতা আগে থেকে কেউ নিশ্চিত করতে পারে না। তাই অযথা চাপ না নিয়ে নিজের কাজের ওপর মনোযোগ দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সাক্ষাৎকারে সালমানের কাজের প্রতি নিবেদন নিয়েও প্রশংসা করেন পুলকিত। তার মতে, সালমানের প্রতিদিনের জীবনের বড় অংশজুড়েই থাকে সিনেমা। চরিত্র নির্বাচন, চিত্রনাট্য, অ্যাকশন দৃশ্য কিংবা নতুন পরিকল্পনা সবকিছু নিয়েই তিনি নিয়মিত ভাবেন। এমনকি খুব কম ঘুমিয়েও কাজের প্রতি তার মনোযোগে কোনো ঘাটতি দেখা যায় না।
পুলকিত বলেন, সালমানের এই কর্মনিষ্ঠা দেখে তিনি বুঝেছেন, তার সাফল্যের কাছাকাছি পৌঁছাতেও অনেক বেশি পরিশ্রম প্রয়োজন। এরপর থেকেই কঠোর পরিশ্রমকে নিজের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করেছেন তিনি।
সালমানের ব্যক্তিগত আচরণ নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেন পুলকিত। তিনি বলেন, এত বড় তারকা হওয়ার পরও পরিবারের প্রতি সালমানের শ্রদ্ধা ও দায়িত্ববোধ অটুট। বিশেষ করে বাবা সেলিম খানের প্রতি তার সম্মান তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে এবং নিজের জীবনেও সেই মূল্যবোধ অনুসরণ করার চেষ্টা করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।