ফুটবল ইতিহাসে খুব কম খেলোয়াড়ই সময়কে এতটা চ্যালেঞ্জ জানাতে পেরেছেন, যতটা পেরেছেন পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ৪১ বছর বয়সে এসে অবশেষে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের ইতি টেনেছেন তিনি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অসংখ্য অবিস্মরণীয় মুহূর্তে সমৃদ্ধ ছিল তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার।
২০২৬ সালের উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে ছয়টি ভিন্ন আসরে গোল করা প্রথম ফুটবলার হওয়ার কীর্তি গড়েছিলেন রোনালদো। তবে শেষ ষোলোতে স্পেনের কাছে পর্তুগালের হতাশাজনক হারে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে যায়। সেই হারের পর মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন তিনি।
বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ না হলেও ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপে আরও একবার খেলার আশা ছিল তার। কিন্তু পর্তুগালের নতুন কোচ হোর্হে জেসুসের সঙ্গে বড় ধরনের মতবিরোধ, নিষেধাজ্ঞা এবং পরবর্তী সময়ে অবসরের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে শেষ হয় তার আন্তর্জাতিক অধ্যায়।
অবশ্য এমন বিদায় নিশ্চয়ই চাননি রোনালদো। তবে দেশের হয়ে তার অর্জনের দিকে তাকালে হতাশার চেয়ে গর্বই বড় হয়ে উঠবে। কারণ, রোনালদোর আবির্ভাবের আগে পর্তুগালের ঝুলিতে ছিল না কোনো বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা।
জাতীয় দলের হয়ে ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোল করেছেন রোনালদো। দুটি সংখ্যাই আন্তর্জাতিক ফুটবলে রেকর্ড। এবার পর্তুগালের জার্সিতে তার সেরা ১০টি স্মরণীয় মুহূর্ত ফিরে দেখা যাক।
১০. ম্যাচ খেলার বিশ্বরেকর্ড
২০২২ বিশ্বকাপে পর্তুগাল ও রোনালদোর হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার চালিয়ে যাওয়া নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল। কিন্তু নতুন কোচ রবার্তো মার্তিনেস তাকে দল থেকে বাদ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনাই করেননি।
২০২৩ সালের মার্চে লিখটেনস্টাইনের বিপক্ষে ৪-০ গোলের জয়ে দুটি গোল করেন রোনালদো। ম্যাচটি তার জন্য বিশেষ হয়ে ওঠে অন্য একটি কারণে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার বিশ্বরেকর্ড নিজের করে নেন তিনি।
ইউরো ২০২৪ বাছাইপর্বে পর্তুগালের হয়ে নিজের ১৯৭তম ম্যাচ খেলার পর রোনালদো বলেছিলেন, 'রেকর্ড সব সময়ই ইতিবাচক। এগুলো আমাকে অনুপ্রাণিত করে। আপনারা জানেন, আমি রেকর্ড ভাঙতে পছন্দ করি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ডের মালিক হওয়াটা আমাকে গর্বিত করেছে। তবে ভবিষ্যতে আরও অনেক ম্যাচ খেলতে চাই।'
৯. ফুটবলের এক প্রতিভা
২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো আয়োজিত উয়েফা নেশনস লিগের সেমিফাইনালে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল পর্তুগাল। ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে নিজের জাদু দেখান রোনালদো।
ম্যাচের শুরুতে ফ্রি-কিক থেকে গোল করে পর্তুগালকে এগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। পরে রিকার্ডো রদ্রিগেজ পেনাল্টি থেকে সমতা ফেরান।
নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার দুই মিনিটের কিছু বেশি সময় আগে ১৪ গজ দূর থেকে প্রথমবারের মতো বল মাটিতে পড়ার আগেই দুর্দান্ত শটে গোল করেন রোনালদো। এরপর সুইজারল্যান্ড সমতা ফেরানোর চেষ্টা করলে পাল্টা আক্রমণে আবারও গোল করেন তিনি।
দ্রুত কয়েকটি ভেলকি দেখিয়ে ইয়ান সোমারের জালে বল পাঠিয়ে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক। ম্যাচটি ৩-১ গোলে জেতে পর্তুগাল।
তৎকালীন কোচ ফার্নান্দো সান্তোস বলেছিলেন, 'রোনালদোর খেলা বর্ণনা করতে গিয়ে আমি অনেক বিশেষণ ব্যবহার করেছি। সে ফুটবলের এক প্রতিভা। কেউ যখন তিনটি গোল করে, তখন সেই খেলোয়াড়ই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়।'
৮. আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড
২০২১ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে শুরুটা ভালো হয়নি পর্তুগালের। নিজেদের মাঠে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পাশাপাশি পেনাল্টিও মিস করেন রোনালদো।
তবে হাল ছাড়েননি তিনি। ম্যাচের শেষ দিকে দুটি দুর্দান্ত হেডে গোল করে দলকে ২-১ গোলের জয় এনে দেন।
এই দুটি গোলের মাধ্যমে ইরানের আলী দাইকে ছাড়িয়ে পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলের মালিক হন রোনালদো। তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১১০ ও ১১১।
ম্যাচ শেষে রোনালদো বলেছিলেন, 'আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমার ক্যারিয়ারের জন্য এটি আরেকটি অর্জন, আমার সংগ্রহশালায় যোগ হলো আরেকটি রেকর্ড। ফুটবলের প্রতি আমার অনুপ্রেরণা ও খেলার ইচ্ছাই আমাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।'
৭. বিশ্বকাপে ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক
বিশ্বকাপে ছয়টি আসরে খেলেছেন রোনালদো। গোলও করেছেন প্রতিটি আসরে। তবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলার অভিজ্ঞতা তার হয়েছে মাত্র একবার, ২০০৬ সালে।
২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে অসাধারণ হ্যাটট্রিক করেন তিনি।
ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি থেকে গোল করে পর্তুগালকে এগিয়ে দেন রোনালদো। পরে দাভিদ দে হেয়ার ভুলে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিচু শটে করেন দ্বিতীয় গোল।
ম্যাচের শেষ দিকে ৩-২ গোলে পিছিয়ে ছিল পর্তুগাল। খেলা শেষ হতে বাকি মাত্র দুই মিনিট। এমন সময় দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিকে স্পেনের জালে বল জড়িয়ে দেন রোনালদো। ম্যাচটি ৩-৩ গোলে ড্র হয়।
বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করা সবচেয়ে বেশি বয়সী খেলোয়াড় হওয়ার কীর্তিও গড়েন তিনি।
ম্যাচ শেষে ৩৩ বছর বয়সী রোনালদো বলেছিলেন, 'এটি আমার ব্যক্তিগত সেরা অর্জনগুলোর একটি।'
৬. আনন্দের অশ্রু
২০২৪ সালের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপে আবেগঘন বিদায়ের এক বছর পর আবারও জার্মানিতে ফিরেছিলেন রোনালদো। এবার পর্তুগালের হয়ে নেশনস লিগের ফাইনালে স্পেনকে হারিয়ে আনন্দের কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
মিউনিখে স্পেনের বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ে সমতাসূচক গোল করেছিলেন রোনালদো। পরে টাইব্রেকারে জয় পেয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে পর্তুগাল।
এর আগে সেমিফাইনালে স্বাগতিক জার্মানির বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়েও গোল করেছিলেন তিনি। ডেনমার্কের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগেও গোল করেন পর্তুগিজ অধিনায়ক।
ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত রোনালদো বলেন, 'পর্তুগালের হয়ে শিরোপা জেতা সব সময়ই বিশেষ কিছু। ক্লাবের হয়ে অনেক শিরোপা জিতেছি, কিন্তু পর্তুগালের হয়ে জয়ের চেয়ে ভালো কিছু নেই। তাই এই অশ্রু, কারণ নিজের দায়িত্ব পালন করতে পেরেছি।'
৫. স্বপ্নপূরণের পথে আরও এক ধাপ
২০১৬ সালের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে ওয়েলসের মুখোমুখি হয় পর্তুগাল। প্রথমার্ধে রোনালদোকে বেশ ভালোভাবেই আটকে রেখেছিল ওয়েলস।
তবে বিরতির পর আর তাঁকে আটকে রাখা সম্ভব হয়নি। রাফায়েল গেরেইরোর ক্রস থেকে দুর্দান্ত উচ্চতায় লাফিয়ে হেডে গোল করেন রোনালদো। তিন মিনিট পর তাঁর নেওয়া নিচু শট নানি পা ছুঁইয়ে জালে পাঠালে ২-০ গোলের জয় নিশ্চিত হয় পর্তুগালের।
ফাইনালে ওঠার পর রোনালদো বলেছিলেন, 'আমি সব সময় বলেছি, পর্তুগালের হয়ে একটি শিরোপা জেতাই আমার স্বপ্ন। আমরা সেই স্বপ্নের আরও কাছে পৌঁছে গেছি। আমার বিশ্বাস, আমরা জিতব। কঠোর পরিশ্রম, বিনয় এবং আত্মত্যাগের মানসিকতা থাকলে এমন স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব।'
শেষ পর্যন্ত তার সেই স্বপ্ন সত্যি হয়েছিল।
৪. পর্তুগালের নতুন তারকার আবির্ভাব
২০০৪ সালের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপে পর্তুগালের হয়ে প্রথম বড় আন্তর্জাতিক আসর খেলতে নেমেছিলেন রোনালদো। আসরের শুরুতে ছিলেন বদলি খেলোয়াড়। কিন্তু টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার আগেই নিজেকে পর্তুগালের অন্যতম সেরা তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি।
মাত্র ১৯ বছর বয়সী রোনালদো তখন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে নিজের প্রথম মৌসুম শেষ করেছেন। পুরো টুর্নামেন্টে দুটি গোল করেন তিনি।
গ্রুপ পর্বে গ্রিসের বিপক্ষে হারের ম্যাচে প্রথম গোলটি পেলেও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সেমিফাইনালের গোলটি ছিল অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
দেকোর কর্নার থেকে দুর্দান্ত হেডে গোল করে পর্তুগালকে এগিয়ে দেন রোনালদো। পরে তাঁর দ্রুত নেওয়া কর্নার থেকেই মানিশ দুর্দান্ত শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ২-১ গোলের জয়ে ফাইনালে ওঠে পর্তুগাল।
যদিও ফাইনালে গ্রিসের কাছে ১-০ গোলে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় স্বাগতিকদের, তবু রোনালদোর প্রতিভা নিয়ে কারও সংশয় ছিল না।
পর্তুগিজ কিংবদন্তি লুইস ফিগু বলেছিলেন, 'বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড় হওয়ার মতো সব গুণই তার রয়েছে। এমনকি আমার দেখা খেলোয়াড়দের চেয়েও সে ভালো হয়ে উঠতে পারে।'
৩. বিপদে পর্তুগালের ত্রাতা
২০১৬ সালের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপ পর্বে হাঙ্গেরির বিপক্ষে রোমাঞ্চকর এক ম্যাচ খেলেছিল পর্তুগাল।
শুরুতে জোলতান গেরার দুর্দান্ত গোলে পিছিয়ে পড়ে দলটি। বিরতির ঠিক আগে রোনালদোর পাস থেকে গোল করে সমতা ফেরান নানি।
দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুবার পিছিয়ে পড়ে পর্তুগাল। কিন্তু দুইবারই দলকে রক্ষা করেন রোনালদো। প্রথমবার অসাধারণ ব্যাক-হিল শটে গোল করেন তিনি। এরপর শক্তিশালী হেডে করেন আরেকটি গোল।
৩-৩ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচের পর রোনালদো বলেছিলেন, 'এটি ছিল পাগলাটে এক ম্যাচ। প্রচণ্ড গরম ছিল, খেলাও ছিল কঠিন। বারবার আমাদের পিছিয়ে পড়তে হয়েছে। আমরা তিনবার ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে বিদায়ের মুখে পড়েছিলাম। তবে মূল লক্ষ্য ছিল পরের রাউন্ডে যাওয়া।'
শেষ পর্যন্ত সেই লক্ষ্য পূরণ হয় রোনালদোর অসাধারণ পারফরম্যান্সেই।
২. ইব্রাহিমোভিচকে পেছনে ফেলা
২০১৪ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে পর্তুগাল ও সুইডেনের মধ্যকার প্লে-অফ যেন পরিণত হয়েছিল দুই মহাতারকা রোনালদো ও জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের ব্যক্তিগত লড়াইয়ে।
প্রথম লেগে একমাত্র গোলটি করে পর্তুগালকে জিতিয়েছিলেন রোনালদো। ফিরতি লেগে সুইডেনের মাঠেও ৫০ মিনিটে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।
পরে ইব্রাহিমোভিচ দুটি গোল করে সুইডেনকে এগিয়ে নেন। কিন্তু রোনালদো তখনো থামেননি। দুর্বল পা বাঁ পায়ে আরেকটি গোল করে সমতা ফেরান তিনি। এরপর ডান পায়ের জোরালো শটে পূর্ণ করেন দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক।
ম্যাচটি ৩-২ গোলে জেতে পর্তুগাল। দুই লেগ মিলিয়ে ৪-২ ব্যবধানে জয় পেয়ে ২০১৪ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে দলটি।
ম্যাচ শেষে রোনালদো বলেন, 'আমি জানতাম, এই ম্যাচগুলোতে পর্তুগালের আমাকে প্রয়োজন। আমি সেটি প্রমাণ করেছি। আমি শুধু নিজের দায়িত্ব পালন করেছি, যেমনটা সাম্প্রতিক সময়ে করে আসছি।'
১. শিরোপাজয়ী অধিনায়ক, মাঠের কোচও!
পর্তুগালের ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি ২০১৬ সালের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল। ফ্রান্সের বিপক্ষে সেই ম্যাচে মাত্র ২৫ মিনিট খেলেই হাঁটুর চোটে মাঠ ছাড়তে হয় রোনালদোকে।
কিন্তু মাঠের বাইরে থেকেও দলের সঙ্গে ছিলেন তিনি। চোট পাওয়া বাঁ হাঁটুতে ব্যান্ডেজ বাঁধা অবস্থায় বেঞ্চে বসে না থেকে পুরো সময় ডাগআউটের পাশে দাঁড়িয়ে সতীর্থদের নির্দেশনা দিতে থাকেন।
পর্তুগালের ডিফেন্ডার হোসে ফন্তে পরে জানিয়েছিলেন, মাঠের খেলোয়াড়রা তখন নিজেদের খেলায় এতটাই মনোযোগী ছিলেন যে রোনালদো সহকারী কোচের মতো নির্দেশনা দিচ্ছেন, সেটি তাঁরা ঠিকমতো খেয়ালই করেননি।
অন্যদিকে কোচ ফার্নান্দো সান্তোসও জানিয়েছিলেন, রোনালদোর এমন ভূমিকা তাঁর কর্তৃত্বে কোনো প্রভাব ফেলেনি।
ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে এদেরের একমাত্র গোলে স্বাগতিক ফ্রান্সকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন হয় পর্তুগাল।
ম্যাচ শেষে সান্তোস বলেছিলেন, 'রোনালদো অন্য যেকোনো পর্তুগিজের চেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছিল। সে শুধু আমাকে বলছিল, আমরা জিতব, আমরা জিতব। এতে খারাপ কী আছে? সে একজন অসাধারণ অধিনায়ক এবং বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়।'
শিরোপা জয়ের পর আবেগাপ্লুত রোনালদো বলেছিলেন, 'এটি আমার জন্য এক অনন্য মুহূর্ত। ২০০৪ সাল থেকে এই শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখেছি। এটি কখনো ভোলার নয়।'
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেশের হয়ে প্রথম বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা জিতেছিলেন তিনি। এর কয়েক মাস আগেই রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে জিতেছিলেন ইউরোপসেরা ক্লাবের শিরোপা।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।