
গাজীপুর মহানগরের পূবাইলের হায়দরাবাদ এলাকায় র্যাবের অভিযানে ৫ মন ঘোড়ার মাংস ও ৩৭টি রোগাক্রান্ত ঘোড়া উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তাকওয়া মসজিদ সংলগ্ন জনৈক শফিকুল ইসলামের বাড়িতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে র্যাব, পুলিশ, আনসার, গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সদস্যরা অংশ নেন।
অভিযানের সময় ঘোড়ার মাংস বিক্রির সঙ্গে জড়িত কেউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। র্যাবের উপস্থিতির খবর পেয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে নিজের বাড়িতে নির্মিত একটি শেডে রোগাক্রান্ত ঘোড়া জবাই করে সেই মাংস রাজধানী ও গাজীপুরের বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁয় গরুর মাংস হিসেবে বিক্রি করতেন। স্থানীয়দের প্রতিবাদে তিনি একাধিকবার হুমকি দেন। প্রশাসনের অভিযান ও জরিমানার পরও তিনি অবৈধ এ ব্যবসা চালিয়ে যান।
প্রথমদিকে প্রতিদিন ১০-১৫টি ঘোড়া জবাই করা হলেও বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১০০টি ঘোড়া জবাই করে বিক্রি করা হচ্ছে, বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। শফিকুল ইসলাম দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে রোগাক্রান্ত ও মৃতপ্রায় ঘোড়া সংগ্রহ করে রাতে গোপনে পূবাইলে এনে জবাই করতেন। পরে সকালে ক্রেতারা পিকআপ ও সিএনজি যোগে মাংস কিনে নিয়ে যেতেন।
এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসন এর আগে ঘোড়া জবাই ও মাংস বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। কিন্তু শফিকুল ইসলাম প্রকাশ্যে ব্যবসা বন্ধ করে গোপনে তা আরও সম্প্রসারিত করেন।
শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকরা জানান, “রোগাক্রান্ত ঘোড়ার মাংসে ভয়াবহ জীবাণু থাকে যা মানবদেহে সংক্রমণ, চর্মরোগ ও এমনকি ক্যান্সারের ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।”
অভিযানের বিষয়ে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৮টি ঘোড়া থেকে সংগৃহীত প্রায় ৫ মন ঘোড়ার মাংস জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া ৩৭টি রোগা ও জীর্ণ ঘোড়া স্থানীয় দুইজনের জিম্মায় রাখা হয়েছে, যেগুলো পরবর্তীতে ধ্বংস করা হবে। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি, তাই তাৎক্ষণিক জরিমানাও করা যায়নি।”
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।