
গভীর রাতে হঠাৎ করেই ঘরের পোষা বিড়ালটির অস্বাভাবিক ডাকাডাকিতে ঘুম ভাঙে পরিবারের সদস্যদের। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও বিড়ালের আচরণে সন্দেহ হলে মোবাইল ফোনের আলো জ্বালিয়ে ঘর তল্লাশি করেন তারা। তখন ঘরের এক কোণে কুণ্ডলী পাকিয়ে থাকা একটি অজগরের ছানা দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় সাপটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে বন বিভাগের পরামর্শে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করা হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলমা এলাকার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানসংলগ্ন ত্রিপুরা পল্লীতে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পল্লীর হেডম্যান চিত্তরঞ্জন দেববর্মার বসতঘরে অজগরের ছানাটি ঢুকে পড়ে। পরিবারের সদস্যদের আগেই সাপটির উপস্থিতি টের পায় তাদের পোষা বিড়ালটি।
চিত্তরঞ্জন দেববর্মা জানান, বিড়ালের একটানা ডাকাডাকি ও অস্বাভাবিক আচরণ দেখে ঘুম থেকে উঠে ঘর তল্লাশি করেন। এ সময় ঘরের এক কোণে অজগরের ছানাটি দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় কোনো ধরনের ক্ষতি না করেই সাপটিকে নিরাপদে আটক করা হয়। শুক্রবার সকালে বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাদের পরামর্শে অজগরের ছানাটি সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করা হয়।
সাতছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে বর্তমানে অজগরসহ বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। কয়েক বছর আগে উদ্ধার করা কয়েকটি অজগর উদ্যানে অবমুক্ত করা হয়েছিল। সেগুলো এখন প্রাকৃতিক পরিবেশে বংশবিস্তার করছে।
তিনি আরও বলেন, অজগর বিষধর নয় এবং বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই কোনো বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে এলে আতঙ্কিত না হয়ে বা প্রাণীটিকে আঘাত না করে দ্রুত বন বিভাগকে অবহিত করার আহ্বান জানান তিনি।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।