প্রকাশ্যে চরকি অরিজিনাল ফিল্ম ‘চা গরম’র ট্রেলার। যা দেখে স্পষ্টই বোঝা যায়- আইরিন (সাফা কবির) একজন চিকিৎসক। তিনি চা বাগানে যান সেখানকার মানুষদের চিকিৎসা দিতে। তার সঙ্গে প্রথম থেকেই রবিন (রেজওয়ান পারভেজ) নামের এক চরিত্রকে দেখা যায়। ধীরে ধীরে আইরিনের সঙ্গে যুক্ত হতে থাকে নন্দিনী (সারাহ জেবীন অদিতি), মিঠু (পার্থ শেখ)সহ অনেকে। কিন্তু কেন? কীভাবে তাদের একসঙ্গে হওয়া? জানা যাবে ‘চা গরম’ ফিল্মে। ট্রেলারের কিছু দৃশ্য এ সংলাপ দেখে-শুনে বুঝতে কষ্ট হয় না যে কিছু মানুষ কতটা সুবিধা বঞ্চিত এবং মেধা থাকা সত্ত্বেও তাদের স্বপ্ন আলো পায় না। আসলেই কি পায় না? না কি পায়? ‘চা গরম’ ফিল্মে হয়তো এগুলো জানা যাবে।
পয়লা বৈশাখা উপলক্ষে চরকিতে মুক্তি পাচ্ছে ‘চা গরম’ ফিল্মটি। ১৩ এপ্রিল রাত ১২টা থেকে দর্শকরা এটি দেখতে পারবেন। সাইফুল্লাহ রিয়াদের গল্প ও চিত্রনাট্যে ফিল্মটি পরিচালনা করেছেন শঙ্খ দাশগুপ্ত। পরিচালক আগেই বলেছিলেন, চা বাগানকে ব্যাকড্রপ হিসেবে নয় বরং এর ভেতরের কিছু বিষয় তুলে আনার চেষ্টা করেছেন তারা।
শঙ্খ দাশগুপ্ত বলেন, ‘রিসার্চ, গল্প ও চিত্রনাট্যের জন্য আমরা কুলাউড়াতে চা বাগানে গিয়েছিলাম। আমরা তো আসলে চা বাগান সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানি না। সারফেস লেভেলে শ্রমিকদের বেতন, শিক্ষা পায় না, মেডিক্যাল ফেসিলিটিজ পায় না এগুলোই জানি। এগুলো ছাড়া এদের মধ্যে এক ধরনের হ্যাপিনেসও আছে। এরকম অনেক শ্রমিককে আমরা পেয়েছি যে আসলে সারাজীবন এই চা বাগানেই থেকে যেতে চায়, কারণ এটাতেই তিনি খুশি। এমন শ্রমিকদেরকেও আমরা মিট করেছি যার জীবনে কোনো দুঃখ নেই কারণ তার কাছে কেউ টাকা পায় না। সো আমরা আসলে দুই দিকের গল্পই বলার চেষ্টা করেছি। সঙ্গে মিথ, রিচ্যুয়াল তো আছেই।’
আইরিন চরিত্রের অভিনেত্রী সাফা কবির-এর মতে, ‘চা গরম’ মূলত সেসব মানুষের গল্প, যারা সমাজের প্রান্তে থেকে প্রতিদিন লড়াই করে যাচ্ছে, কিন্তু যাদের কণ্ঠ আমরা খুব কমই শুনি।
অভিনেত্রী বলেন, ‘এই গল্পের মাধ্যমে আমরা প্রন্তিক শ্রমিকদের বাস্তবতা এবং সংগ্রামকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি যাতে দর্শক তাদের আরও কাছ থেকে বুঝতে পারে। একই সঙ্গে, এটি সমতার একটি গল্প, একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার গল্প। এখানে একটি খুব সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বার্তা আছে- মানুষকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। এই গল্পে আবেগ আছে, সংগ্রাম আছে, হাস্যরস আছে এবং আছে একে অপরের জন্য লড়াই করার শক্তি। “চা গরম” এমন একটি কাজ, যা দর্শকদের ভাবাবে এবং কিছুটা নাড়িয়ে দেবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’
চা শ্রমিকদের একজন হয়ে অভিনয় করেছেন রেজওয়ান পারভেজ, তার চরিত্রের নাম রবিন চাঁদ মুর্মূ। লোকমুখে সহজ-সরল মানুষের যেই উপমাগুলো শুনে থাকি, রবিন হচ্ছে তার জলজ্যান্ত একটা উদাহরণ, জানান রেজওয়ান পারভেজ।
পার্থ শেখ অভিনয় করেছেন মিঠু চরিতে। চরিত্রটি খুব কেয়ারলেস, ফ্রেন্ড সার্কেল মেইনটেইন করে, তার খাছে সব ধরনের সমস্যার সমাধান আছে। গল্প নিয়ে পার্থ শেখ বলেন, ‘গল্পের দর্শনটা আসলে চা গাছেই লুকিয়ে আছে। মাথা ছিড়ে না ফেললে কিন্তু চা গাছ আরও অনেক বড় হয়। কিছু ফল পাবার জন্য সেটাকে কখনও বড় হতে দেওয়া হয় না।’
গল্পে আরও আছেন এ কে আজাদ সেতু। চরকি ও অক্সফ্যাম যৌথ প্রযোজনায় ছবিটি তৈরি করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায়। সিনেমার সাথে যুক্ত আছে মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রবি।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।