
ফেনীতে শিশু হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে “ছাত্র আন্দোলনের অর্জিত আদর্শের জন্য কলঙ্কজনক অধ্যায়” আখ্যা দিয়ে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সম্পাদক মুহাম্মাদ আশিকুল ইসলাম বলেছেন, দেশকে দুর্নীতি ও খুনিদের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে প্রচলিত নির্বাচন ব্যবস্থার পরিবর্তে সংখ্যানুপাতিক (PR) পদ্ধতিতে নির্বাচন প্রবর্তন করতে হবে।
তিনি বলেন, গত বছরের জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থান-পরবর্তী ছাত্র আন্দোলনে অসংখ্য শিক্ষার্থী প্রাণ দিয়েছে, কেউ চোখ হারিয়েছে, কেউ হয়েছে পঙ্গু। তাদের রক্তের বিনিময়ে একটি সুন্দর দেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু প্রচলিত নির্বাচন ব্যবস্থা কালো টাকা, পেশিশক্তি ও ভোট জালিয়াতির জন্ম দেয়, যা দেশকে আবারও অন্ধকারে ঠেলে দেয়। তাই পিআর পদ্ধতির বিকল্প নেই।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট ২০২৫) বিকেল ৪টায় ফেনী শহরের শহীদ মিনারে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ ফেনী জেলা শাখার উদ্যোগে “রাষ্ট্রসংস্কার, পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন এবং ইনসাফভিত্তিক কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা” দাবিতে আয়োজিত ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ছাত্র সমাবেশে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
আশিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে বিশ্বের ৯১টি দেশে সংখ্যানুপাতিক ব্যবস্থা চালু আছে এবং কোনো দেশই তা বাতিল করেনি। বরং আরও দেশ এ ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে। তিনি দাবি করেন, দেশে অধিকাংশ রাজনৈতিক দলই পিআর পদ্ধতি চায়, কিন্তু কিছু স্বার্থান্বেষী মহল তা বাধাগ্রস্ত করছে।
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান—গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত জেনে নির্বাচন পদ্ধতি নির্ধারণ করা হোক। সুজন পরিচালিত এক জরিপের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৭১ শতাংশ মানুষ পিআর পদ্ধতির পক্ষে মত দিয়েছেন।
প্রধান অতিথি ফেনীর পাঁচগাছিয়ায় শিশু নির্যাতনের পর হত্যার ঘটনায় গভীর নিন্দা জানিয়ে বলেন, দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় খুন, গুম ও ধর্ষণ মারাত্মক ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে। অপরাধ দমনে তিনি দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণ এবং শরীয়া আইন প্রবর্তনের দাবি জানান।
তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেন—
১. নির্বাচন ব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে।
২. হত্যাকাণ্ডের দৃশ্যমান বিচার করতে হবে।
৩. একটি সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
মাওলানা সৈয়দ হাবিবুল্লাহ বেলালী, সাবেক জেলা সভাপতি, বলেন: ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা ৩৪ বছরে কোনো বদনাম অর্জন করেনি। অন্য ছাত্র সংগঠনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে শিক্ষা নিয়ে তোমরা নৈতিকতার আদর্শ প্রতিষ্ঠা করো।
মুফতি আব্দুর রহমান ফরহাদ, জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক, বলেন: বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মৌলবাদ বিষয়ক বক্তব্যে কোনো পার্থক্য নেই। যারা মৌলবাদ নিয়ে সমালোচনা করে, তারাই একসময় ডানপন্থীদের ভোটে নির্বাচিত হয়েছে।
মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ ফেনী, বলেন: ইসলামী ছাত্র আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণকামী রাষ্ট্র গঠনের আন্দোলন করছে। এখানে কোনো সন্ত্রাসী বা দুর্নীতিবাজ নেই।
আলী আহমদ ফোরকান, জেলা সভাপতি, বলেন: ২৪-পরবর্তী বাংলাদেশ কোনো স্বৈরাচার, দুর্নীতিবাজ বা সন্ত্রাসীর হাতে বন্দি হতে পারবে না। এজন্য রাষ্ট্রে মৌলিক সংস্কার এবং শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন অপরিহার্য।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষাঙ্গনে অপরাজনীতি ও সন্ত্রাস বন্ধ করতে হবে। ক্যাম্পাসে সুস্থ রাজনীতি চর্চার জন্য ফেকসু, ডাকসু, জাকসু, রাকসুসহ ছাত্র সংসদ নির্বাচন সময়মতো আয়োজন করতে হবে।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ফেনী জেলা প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুফতি হাবিবুর রহমান, ফেনী-০১ আসনে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা কাজী গোলাম কিবরিয়া, ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ ফেনী জেলা সভাপতি মাওলানা জাহিদ হাসান চৌধুরী, সাবেক সভাপতি হাফেজ মাওলানা নুরুজ্জামান প্রমুখ।
এছাড়া ফেনী জেলা শাখার সহ-সভাপতি মুহাম্মাদ নাদের চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আশিক, দাওয়াহ সম্পাদক ওমর ফারুক শামীম, তথ্য গবেষণা সম্পাদক জুনায়েদ আহমেদ, অর্থ সম্পাদক ইব্রাহিম, প্রকাশনা সম্পাদক ওমর বিন জামাল, কওমী মাদ্রাসা সম্পাদক জিয়াউর রহমান ফারুকী, সাহিত্য সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন সাব্বির, কার্যনির্বাহী সদস্য ফয়জুল করিম সালমান, পৌরসভা সভাপতি হাবিবুল্লাহ মিসবাহসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।