রাজধানীর বনানী এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, অলিগলি ও বিভিন্ন স্পটে প্রকাশ্যেই মাদক বিক্রি হচ্ছে, যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবকদের মধ্যে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক নিয়ন্ত্রণে বনানী থানা কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তারা দাবি করেছেন, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান নেই এবং কিছু সোর্সের যোগসাজশে মাদক ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, কখনও কখনও নিরীহ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করার ঘটনাও ঘটছে।
বনানী থানার বর্তমান ওসি মো. রাসেল সারোয়ার মাদক দমনে যথাযথ উদ্যোগ নিচ্ছেন না—এমন অভিযোগ এসেছে স্থানীয়দের কাছ থেকে। তবে এ বিষয়ে থানার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে স্থানীয়দের বর্ণনায় যেসব নাম এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক কারবার—এমন অভিযোগ রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে এসব বিষয়ে কোনো অফিসিয়াল মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মহাখালী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পেছনের গলিতে শরীফের বাড়িতে প্রতিদিন ইয়াবা সেবন ও বেচাকেনার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তার বিরুদ্ধে অতীতে চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ একাধিক অপরাধমূলক কাজেরও অভিযোগ আছে বলে জানিয়েছেন তারা। অভিযোগ রয়েছে—তিনি মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে কয়েকবার আটক হলেও পুনরায় মাদক কারবার শুরু করেন।
বেলতলা বস্তির বাসিন্দা সাগর (২৮) ও তার মায়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন গাঁজা ব্যবসার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী দাবি করেন, তারা নিয়মিতভাবে বিভিন্ন স্থানে মাদক সরবরাহ করেন। আরও অভিযোগ আছে—একবার আটক হওয়ার পর সাগর হাতকড়া অবস্থায় পালিয়ে যান, পরে তাকে এলাকায় সোর্সদের সঙ্গে দেখা গেছে।
মহাখালী হাজারিবাড়ী এলাকার আবির (২৭) ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে ইয়াবা ও ফেনসিডিলের ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, সোর্স পরিচয়ের কারণে তারা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন।
ওয়্যারলেস গেট এলাকায় কৌশলে ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে কাশেম নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তিনি ব্যক্তিগত চাকরির পাশাপাশি মাদক ডেলিভারি দেন—এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
অন্যদিকে বেলতলা এলাকার অপু নামে এক যুবকের বিরুদ্ধেও ইয়াবা ডেলিভারির অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাকে মোটরসাইকেলে ইয়াবা পৌঁছে দিতে দেখা যায় বলে জানিয়েছে কয়েকটি স্থানীয় সূত্র।
অনুসন্ধানে স্থানীয়দের বর্ণনায় আরও যেসব নাম উঠে এসেছে— ইয়াছিন আলাউদ্দিন, বাবলু, রুবেল, মফিজ, কুদ্দুছ, রিপন, শাহীন, ফর্মা হারুন।
তাদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর অভিযোগ—মাদক ব্যবসার মাধ্যমে তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন।
স্থানীয়রা বলেন, বনানীতে মাদক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান প্রয়োজন। তারা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।