
কখনও প্রভাবশালী এমপি-মন্ত্রীর এপিএস, কখনও ব্যাংক কর্মকর্তা, আবার কখনও পুরনো গাড়ির ব্যবসায়ী—এভাবেই ভিন্ন ভিন্ন পরিচয়ে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতেন মহিউদ্দিন আহমেদ সুমন। আর সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে চাকরি, ব্যাংক ঋণ বা গাড়ি কেনাবেচার প্রলোভন দেখিয়ে হাতিয়ে নিতেন লাখ লাখ টাকা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিজেকে ঢাকা বিমানবন্দর থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেওয়া মহিউদ্দিনের মূল পেশাই ছিল প্রতারণা। নতুন মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে সুযোগ বুঝে বড় অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করে আত্মগোপনে চলে যাওয়াই ছিল তার কৌশল।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টাকা নেওয়ার পরপরই তিনি ব্যবহৃত সিম বন্ধ করে দিতেন এবং দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন করতেন। এভাবে একের পর এক এলাকা বদলে দীর্ঘদিন ধরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলেছেন তিনি। সর্বশেষ মহাখালীর বাসিন্দা মিজানুর রহমানের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান বলেন, “তিনি নিজেকে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। আমার এক আত্মীয়কে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ধাপে ধাপে ৫ লাখ টাকা নেন। এরপর থেকেই তার ফোন বন্ধ। দেওয়া ঠিকানায় গিয়ে জানতে পারি, তিনি বাসা পরিবর্তন করে পালিয়েছেন। এখন আমি নিঃস্ব হয়ে ঘুরছি।”
এ বিষয়ে ঢাকা বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, মহিউদ্দিন আহমেদ সুমনের বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে তার বিভিন্ন পরিচয়ে প্রতারণার বিষয়টি উঠে এসেছে। তার অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, কোনো প্রলোভনে পড়ে আগাম অর্থ লেনদেন না করার জন্য।
বর্তমানে মহিউদ্দিন আহমেদ সুমন পলাতক রয়েছেন। ভুক্তভোগীরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি পুলিশ ধারণা করছে, তার এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।