নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় কৃষি অফিসের চরম অবহেলা ও অসাধু ডিলারদের সিন্ডিকেটের কারণে সারের তীব্র কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নির্ধারিত মূল্য উপেক্ষা করে ডিলাররা বস্তাপ্রতি সর্বোচ্চ ৩৭০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করছেন। এতে সাধারণ কৃষকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলায় বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)–এর ১১ জন এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)–এর ২৪ জন অনুমোদিত ডিলার থাকলেও অধিকাংশ ডিলারের গুদামে সার পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ডিলার লাইসেন্স ভাড়া দিয়ে রেখেছেন কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করে বরাদ্দ পাওয়া সার গুদামে না এনে বাইরে বেশি দামে বিক্রি করছেন।
চলতি জানুয়ারি মাসে পরিচালিত এক অনুসন্ধানে দেখা যায়, এক ডিলারের নামে ৬০৩ বস্তা সার বরাদ্দ থাকলেও গুদামে আনা হয়েছে মাত্র ৩০০ বস্তা। অথচ কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার নথিতে বরাদ্দের সম্পূর্ণ সার বুঝে পাওয়ার স্বাক্ষর রয়েছে। শ্রমিক সর্দার ইসলাম উদ্দিনের দাবি অনুযায়ী, এক রাতেই ৮০ বস্তা ডিএপি ও ৮০ বস্তা ইউরিয়া—মোট ১৬০ বস্তা সার খালাস করা হয়েছে।
সরকারি নির্ধারিত দামে প্রতি বস্তা ডিএপি সারের মূল্য ১ হাজার ৫০ টাকা হলেও কৃষকদের কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৪২০ টাকায়। সাহতা ইউনিয়নের কৃষক রুবেল মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দোকানে গেলে বলে সার নেই। বাধ্য হয়ে বেশি দামে কিনেছি, না কিনলে ফসল নষ্ট হয়ে যাবে।” একই ইউনিয়নের কদম দেউলী গ্রামের কৃষক আনিস মিয়া জানান, ডিলারের গুদামের সামনে এসেও সার পাননি। তিনি অভিযোগ করেন, সাহতা ইউনিয়নের ডিলার মলয় সরকারের বিসিআইসি ডিলার পয়েন্ট অধিকাংশ সময়ই বন্ধ থাকে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. রাশেদুজ্জামান আজাদ নথিতে স্বাক্ষরের বিষয়টি স্বীকার করলেও সারের গরমিল সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। অন্যদিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা বিষয়টি নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, “আমরা বসে নেই, কাজ করছি।” তবে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। কর্মকর্তাদের এমন দায়সারা বক্তব্যে কৃষকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে নেত্রকোনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) কৃষিবিদ রাকিবুল হাসান বলেন, “নেত্রকোনা জেলায় কোথাও সারের সংকটের তথ্য আমাদের কাছে নেই। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগও পাইনি। তবে কোনো ডিলার সিন্ডিকেট করে থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে বারহাট্টার সচেতন মহলের মতে, দ্রুত তদন্ত করে সার ব্যবসায়ীদের এই সিন্ডিকেট ভাঙা না গেলে উপজেলায় খাদ্য উৎপাদনে বড় ধরনের ধস নামতে পারে। স্থানীয় কৃষকরা অবিলম্বে অসাধু ডিলার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।