
নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় বোরো ধান কাটার ভরা মৌসুমে তীব্র শ্রমিক সংকট ও কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনের অপ্রাপ্যতায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। মাঠে পাকা ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও সময়মতো কাটতে পারছেন না তারা।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে ধান কাটার শ্রমিকের চরম সংকট চলছে। একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে বুকসমান পানিতে নেমে কষ্ট করে ধান কাটছেন।
অন্যদিকে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় সরকার ভর্তুকিতে কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন সরবরাহ করলেও মাঠে তার কোনো উপস্থিতি নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বারহাট্টায় সরকারি বরাদ্দে ২৫টি হারভেস্টার মেশিন রয়েছে, যা বিভিন্ন ইউনিয়নে বিতরণ করা হয়েছে।
তবে কৃষকদের দাবি, কাগজে-কলমে মেশিন থাকলেও বাস্তবে সেগুলোর কোনো অস্তিত্ব দেখা যাচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, বেশি লাভের আশায় কিছু মেশিন ভাটি অঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, এমনকি কিছু মেশিন বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
স্থানীয় কৃষক লাল মিয়া বলেন, “ধান পেকে গেছে, কিন্তু কাটার উপায় নেই। শ্রমিক নেই, আর মেশিনও দেখা যাচ্ছে না। সময়মতো ধান তুলতে না পারলে বড় ক্ষতি হবে।”
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে হারভেস্টার মেশিনগুলোর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি। তিনি বিষয়টি জানতে কয়েকদিন সময় লাগবে বলে জানান।
সচেতন মহলের মতে, কৃষি যান্ত্রিকীকরণে সরকারের বিপুল বিনিয়োগ তখনই সফল হবে, যখন কৃষকরা প্রয়োজনের সময় এসব সুবিধা পাবেন। মাঠে মেশিন না থাকলে পুরো উদ্যোগই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।
এ পরিস্থিতিতে দ্রুত তদন্ত করে ভর্তুকির মেশিনগুলোর অবস্থান নিশ্চিত করা এবং কৃষকদের ব্যবহারের জন্য মাঠে ফেরানোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।