
নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত একটি দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষক আবুল হাসেমের বিরুদ্ধে জাল সনদ ব্যবহার করে চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী ও স্থানীয়রা।
অভিযুক্ত আবুল হাসেম বারহাট্টা উপজেলার সাহতা ইউনিয়নের নল্লা দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। তিনি একই গ্রামের আবদুল জব্বারের ছেলে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ২০১৮ সালের ৫ মার্চ ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত শিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন এবং বর্তমানে নল্লা দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় দায়িত্ব পালন করছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২২ এপ্রিল কেন্দুয়া উপজেলার বাসিন্দা মো. হাবিবুল্লাহ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, আবুল হাসেমের জমা দেওয়া শিক্ষাগত সনদে অসঙ্গতি রয়েছে। এক সনদে তার নাম “আবুল হাশিম”, অন্যটিতে “হাফেজ মোহাম্মদ আবুল হাসেম” উল্লেখ করা হয়েছে।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, নল্লা এলাকায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমের সাইনবোর্ড থাকলেও দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদ্রাসার কোনো সাইনবোর্ড পাওয়া যায়নি। এছাড়া স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষকের স্ত্রী ও স্বজনরাও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পদে কর্মরত রয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে আবুল হাসেম বলেন, তিনি কোনো বোর্ড পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও পরিচিত এক শিক্ষকের মাধ্যমে সনদ সংগ্রহ করেছিলেন। তবে সংশ্লিষ্ট বোর্ডে যাচাই করলে তার শিক্ষাগত তথ্য পাওয়া যাবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে দুটি পৃথক মাদ্রাসা থেকে একই বিষয়ে একই সময়ে সনদ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার কর্মকর্তারাও। তাদের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করা প্রয়োজন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন নেত্রকোনা জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক শাহ আলম অভিযোগের বিষয়ে বলেন, “কোনো অনিয়ম থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে।” অন্যদিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুন মুন জাহান লিজা জানিয়েছেন, অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হবে এবং তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।