
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার চম্পাফুল আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র বিদ্যাপীঠে সহকারী কৃষি শিক্ষক পদে স্বপন কুমার ঘোষের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ১৯৯৭ সালে বিধি-বিধান উপেক্ষা করে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং এরপর দীর্ঘ প্রায় ২৮ বছর ধরে তিনি বেতন-ভাতা গ্রহণ করে আসছেন।
অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট নথি, স্থানীয় সূত্র এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তৎকালীন স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতির প্রভাব ব্যবহার করে কোনো লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই এই নিয়োগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে, যেখানে এক অভিভাবক সদস্যের সম্পৃক্ততার কথা স্থানীয়ভাবে আলোচিত।
প্রাপ্ত নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রচলিত একাধিক শর্ত মানা হয়নি। নিয়োগ বোর্ড গঠন, একাধিক প্রার্থীর উপস্থিতি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি, সাক্ষাৎকারের নম্বর তালিকা কিংবা চূড়ান্ত অনুমোদন—এসব গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ।
এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের একাধিক অডিটে এসব অনিয়ম উঠে এলেও তা কার্যকরভাবে নিষ্পত্তি হয়নি বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। কিছু ক্ষেত্রে বিষয়টি ‘ম্যানেজ’ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে, যদিও এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই সম্ভব হয়নি।
নিয়োগপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, পরিচালনা কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর ছাড়াই নামবিহীন সিল ব্যবহার করা হয়েছে। আরও দেখা গেছে, একটি স্বাক্ষর থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নাম উল্লেখ নেই, যা পুরো প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
একইভাবে, ১৯৯৭ সালের ৭ এপ্রিলের যোগদানপত্রেও গ্রহণকারীর নাম অনুপস্থিত এবং সেটি এমন একজন কর্মকর্তার মাধ্যমে সত্যায়িত, যিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্ত স্বপন কুমার ঘোষ সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার নিয়োগ সম্পূর্ণ বৈধ। প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র আমার কাছে রয়েছে। একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে অবৈধভাবে উত্তোলিত বেতন-ভাতা ফেরত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।