
দিনাজপুরের বিরামপুরে পারিবারিক কলহের জেরে ঝগড়াঝাটির এক পর্যায়ে স্ত্রী'র হাতে থাকা বসার পিঁড়ার আঘাতে স্বামী হাফিজুল ইসলাম (৬৫) এর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ঘাতক স্ত্রী রেহেনা বেগম (৪৫) কে আটক করেছে।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকালে উপজেলার দিওড় ইউনিয়নের কুঁচিয়া মোড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। নিহত হাফিজুল ইসলাম ঐ গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে। নিহত হাফিজুল ইসলাম গ্রামগঞ্জে ফেরি করে নিজের বাড়িতে বানানো বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য বিক্রি করতেন। হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মমতাজুল হক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়িতে রাখা টাকা ও চাল নিয়ে মঙ্গলবার সকালে স্ত্রী রেহেনা বেগমের সাথে স্বামী হাফিজুল ইসলামের বাকবিতন্ডা শুরু হয়। ঝগড়াঝাটির এক পর্যায়ে রেহেনা বেগম বসার পিঁড়া দিয়ে স্বামীর মাথায় আঘাত করলে তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। পরে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। প্রথম স্ত্রী মারা যাবার পরে রেহেনা বেগমকে মাত্র তিন মাস পূর্বে নিহত হাফিজুল ইসলাম ২য় বিয়ে করেন। তবে রেহেনা বেগমের এটি ৫ম স্বামী বলে গ্রামবাসি জানিয়েছেন।
নিহত হাফিজুল ইসলামের মেয়ে নুরুন্নাহার তার বাবাকে হত্যার ঘটনায় আহাজারি করতে করতে সৎ মা'র সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
নিহতের বড় ভাই আব্দুস সোবহান বলেন, তার ভাই একজন সাদাসিদে মানুষ ছিলেন। সংসারে অভাব অনটন থাকতেই পারে, কিন্তু তাই বলে সামান্য বিষয় নিয়ে তার ভাইকে হত্যার ঘটনায় তিনি এর সঠিক বিচার দাবি করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য এখলাছুর রহমান বলেন, নৃশংস এ হত্যার ঘটনায় এলাকার মানুষের মাঝে শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তিনিও হত্যার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
দিওড় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক মন্ডল বলেন, স্বামী-স্ত্রী'র ঝগড়াঝাটি নিয়ে এ ধরনের হত্যাকান্ড কখনো কাম্য হতে পারে না। ঘটনাটি হৃদয় বিদারক, আইনিভাবে এ হত্যার ঘটনার সঠিক বিচার হবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
বিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মমতাজুল হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত নারীকে আটক করেছে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।