বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন, আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তিনি গত ২৩ নভেম্বর থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার দাফন হবে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে, তার স্বামী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে। জানা যায়, তার জানাজা আগামীকাল বুধবার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত হতে পারে।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি, যখন বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে যোগ দেন। তৎকালীন সামরিক স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দেন এবং আপসহীন সংগ্রামের কারণে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে জয়লাভ করে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার সময়ে দেশে শিক্ষা খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা হয়; প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষা ও উপবৃত্তি কর্মসূচি চালু করা, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ২৭ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত উন্নীত করা অন্যতম।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনে অসংখ্যবার গ্রেপ্তার ও গৃহবন্দী করা হয়, তবে তিনি কখনো দেশ ছেড়ে পালাননি। তিনি সংসদীয় ইতিহাসে কোনো আসনে পরাজিত হননি এবং ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন।
১৯৯১, ২০০১ ও ২০০৫ সালে বিশ্বে ক্ষমতাধর নারীদের তালিকায় স্থান পাওয়া, যুক্তরাষ্ট্রের ‘গণতন্ত্রের যোদ্ধা’ উপাধি ২০১১ সালে লাভ করা, তার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অংশ। যদিও ২০১৮ সালে বিতর্কিত মামলার কারণে তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সব মামলা থেকে খালাস পান।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।