
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় হামলার অভিযোগে দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হারিসুল বারি রনিকে কুড়িগ্রাম-১ (সংসদীয় আসন-২৫) থেকে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ঘোষণা করায় নির্বাচনী এলাকায় তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাকে ওই আসনে প্রার্থী করেছে।
জানা গেছে, জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও হত্যার বিচার চেয়ে হরিপদ মন্ডল নামের এক ব্যক্তি ঢাকার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (সাভার)-এ একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ১ নম্বর আসামি এবং হারিসুল বারি রনিকে ২৭ নম্বর আসামি করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী হরিপদ মন্ডল (৪২), পিতা পনির চন্দ্র মন্ডল, বাসা ডি/২০, জমিদার বাড়ি, ডাকঘর-সাভার-১৩৪০, থানা সাভার, জেলা ঢাকা—মোট ৯১ জনের নাম উল্লেখ করে সি.আর মামলা নং-৪০৭/২০২৫ দায়ের করেন। মামলার ধারা হিসেবে উল্লেখ রয়েছে ১৪৩/১৪৪/১৪৭/১৪৮/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/১০৯/৩৪ দণ্ডবিধি।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে উস্কানিমূলক বক্তব্য ও কঠোর নির্দেশ দেন। একইভাবে ২ নম্বর আসামি ওবায়দুল কাদেরসহ অন্যান্য আসামিদের নির্দেশ ও মদদে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এবং পুলিশের কিছু সদস্য আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণ করেন। এতে বাদীর পুত্র শুভজিৎ মন্ডলসহ বহু ছাত্র আহত হন।
এই মামলার ২৭ নম্বর আসামি হারিসুল বারি রনিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কুড়িগ্রাম-১ আসনে মনোনয়ন দেয়। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফশীল অনুযায়ী তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করেন এবং যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন। এরপর থেকে তিনি এলাকায় প্রচারণায় সক্রিয় রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
নির্বাচনী এলাকার ভোটার আমিনুর রহমান, মিজানুর রহমান, আব্দুল বারেক ও আসাদুজ্জামান বলেন, “হারিসুল বারি আগে এলাকায় খুব একটা আসতেন না। তিনি জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের এমপিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ থেকে ঠিকাদারি ব্যবসার মাধ্যমে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। ৫ আগস্টের পর হঠাৎ ইসলামী আন্দোলনে যোগ দিয়ে এমপি প্রার্থী হওয়াকে আমরা ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন হিসেবেই দেখছি।” এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে বলেও তারা জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাধিক ছাত্র নেতা বলেন, “মামলার এজাহারভুক্ত আসামিকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতার জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এটি স্পষ্টতই ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন।”
এ বিষয়ে হারিসুল বারি রনির সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি ওই সময় নাগেশ্বরীতেই ছিলাম। একটি মহল ষড়যন্ত্র করে আমার বিরুদ্ধে ঢাকার সাভারে মিথ্যা মামলা করেছে। বিষয়টি আমার নির্বাচনী হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে। পুলিশ তদন্তে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা পায়নি।”
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।