গ্যাবায় অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট থেকে ছিটকে গেছেন উসমান খাজা। এর ফলে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। যেখানে পার্থে প্রথম টেস্টে পিঠের খিঁচুনি অনুভব করার পর পুরোপুরি সেরে না ওঠায় তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার ৩০ মিনিটের নেটে ব্যাট করেছিলেন খাজা। চোটের পর এটিই ছিল তার প্রথম ব্যাটিং। তবুও দলে ফিরতে প্রস্তুত নন বলে নিশ্চিত হয়ে যায়।
দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘খাজা দলের সঙ্গেই থাকবেন পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে। তাকে বদলি নেওয়া হয়নি।’
তার অনুপস্থিতিতে ওপেনিংয়ে আবারও সুযোগ তৈরি হয়েছে ট্রাভিস হেডের জন্য। পার্থ টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ওপেনিংয়ে নেমে তিনি ৮৩ বলে ঝড়ো ১২৩ রান করেছিলেন। তবে অস্ট্রেলিয়ার কাছে আরও দু-একটি বিকল্প পথ খোলা রয়েছে।
স্কট বোল্যান্ড বলেন, ‘সে অনেক পরিশ্রম করেছে শরীরকে প্রস্তুত করতে, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে পারেনি। নেটে তাকে ভালোই মনে হচ্ছিল, কিন্তু সম্ভবত নিজেই অনুভব করেছে সে প্রস্তুত নয়।’
পার্থের পর হেড জানিয়েছেন-দীর্ঘমেয়াদে ওপেনিং ভূমিকা নিতে তিনি প্রস্তুত। তবে তার মূল মূল্যায়ন এখনো হয় পাঁচ নম্বর ব্যাটার হিসেবে। কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ডও প্রয়োজনে নমনীয় ব্যাটিং অর্ডারের কথা বলেছেন।
স্কোয়াডে অতিরিক্ত ব্যাটার হিসেবে রয়েছেন জশ ইংলিস ও বো ওয়েবস্টার। ইংলিস, যিনি এ বছর শ্রীলংকার বিপক্ষে অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করেছিলেন, গত সপ্তাহে ইংল্যান্ড লায়নসের বিপক্ষেও শতক করেছেন। ওয়েবস্টারও দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন-প্রথম সাত টেস্টে চারটি ফিফটি ও কিছু কার্যকর বোলিং।
বোল্যান্ড বলেন, ‘খাজাকে হারানো অবশ্যই আদর্শ নয়, কিন্তু প্রথম টেস্টের মতোই আমরা মানিয়ে নিতে পারব। আমাদের দলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সবচেয়ে ভালো বিষয় হলো-যে-ই বাদ পড়ে, কেউ না কেউ উঠে আসে দায়িত্ব নিতে।’
১৭ ডিসেম্বর অ্যাডিলেডে শুরু হবে তৃতীয় টেস্ট। সেখানে খাজার ফেরার জন্য এখনও দুই সপ্তাহ সময় আছে। তবে তিনি আগের জায়গাটি ফেরত পাবেন কি না, তা এখন বড় প্রশ্ন।
সিরিজে খাজার ফর্ম নিয়েও ছিল প্রশ্ন। ২০২৩ অ্যাশেজের পর থেকে তার গড় মাত্র ৩১.৮৪ এবং ৪৫ ইনিংসে একটি মাত্র সেঞ্চুরি। এর সঙ্গে জুড়ে গেছে হেডের সফল ওপেনিং ও ভূমিকা নিতে আগ্রহের কথা। সব মিলিয়ে তার টেস্ট ক্যারিয়ার শেষের পথে কি না-তা নিয়ে এখন বাড়ছে আলোচনা।
পার্থ টেস্টের প্রথম দিনেই খাজার পিঠে ব্যথা শুরু হয়। প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডের দ্রুত ধসে পড়ায় তিনি ওপেন করতে নামতে পারেননি, কারণ কিছুক্ষণ মাঠের বাইরে ছিলেন। চার নম্বরে নেমে মাত্র ২ রান করে ব্রাইডন কার্সের বাউন্সারে গ্লাভ ছুঁইয়ে আউট হন।
দ্বিতীয় দিনে তিনি প্রথম স্লিপে দায়িত্ব নেন-হ্যারি ব্রুকের একটি ক্যাচ নেন, পরে জেমি স্মিথের একটি ক্যাচ ফেলে দেন। আরেকটি ক্যাচে লাফ দেওয়ার সময় আবারও পিঠে টান লাগে-এ সুযোগেই আসে হেডের স্মরণীয় সেঞ্চুরির ইনিংস।
খাজার চোট, হেডের ফর্ম, স্কোয়াডের গভীরতা-সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ওপেনিং পজিশনে চলছে নতুন সমীকরণ।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।