
রাজধানীর গুলশান ও বনানী এলাকায় ইয়াবা সরবরাহের একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে আদিব জামান ওরফে আশিকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিলাসবহুল জীবনযাপন ও মার্জিত আচরণের আড়ালে তিনি একটি মাদক সরবরাহ নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করছেন। ফোনে অর্ডার, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন এবং নির্দিষ্ট ঠিকানায় মাদক পৌঁছে দেওয়ার পদ্ধতিতে চলছে এই কারবার।
অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বনানীর ১৩ নম্বর রোডের একটি বাড়িকে কেন্দ্র করে চক্রটির কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ক্রেতাদের কাছ থেকে ফোনে অর্ডার নেওয়ার পর বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে অগ্রিম অর্থ সংগ্রহ করা হয়। পরে নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়া হয় ইয়াবা। এ কাজে ব্যক্তিগত বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।
সূত্রগুলোর দাবি, গুলশান ও বনানী এলাকার বিত্তশালী পরিবারের কিছু তরুণ-তরুণী চক্রটির ক্রেতা। একই এলাকায় মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে অন্য মাদক কারবারিদের অস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে আশিকের বিরুদ্ধে।
এ ছাড়া তাঁর কাছে দুটি অবৈধ বিদেশি পিস্তল রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মোহাম্মদপুর এলাকাকে মাদক সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ লেনদেনকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের তথ্যও উঠে এসেছে বলে দাবি অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
চক্রটির কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চলার পেছনে পুলিশের একজন প্রভাবশালী পুলিশ সুপারের (এসপি) আশ্রয়-প্রশ্রয় রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। একাধিক সূত্রের দাবি, অতীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হলেও ওই কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে তিনি রক্ষা পেয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার পরিচয়, বক্তব্য কিংবা অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
বিষয়টি নিয়ে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ঊর্ধ্বতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, মাদক ব্যবসায়ী বা অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক কারবারিকে আশ্রয় দেওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাদকবিরোধী কার্যক্রমে সংশ্লিষ্টদের মতে, নগরীর অভিজাত এলাকাগুলোতে মাদক সরবরাহের এমন অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে মোবাইল ব্যাংকিং, ব্যক্তিগত গাড়ি ও হোম ডেলিভারির মতো পদ্ধতি ব্যবহার করে মাদক সরবরাহের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।