
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার দরাজহাট ইউনিয়নের পাইকপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ শেষ হলেও প্রায় দুই বছর ধরে তালাবদ্ধ পড়ে রয়েছে। ফলে এলাকার পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় ৩৫ লাখ ৫৭ হাজার টাকা ব্যয়ে চার কক্ষবিশিষ্ট ভবনটি নির্মাণ করা হয়। ২০২৪ সালের জুনে নির্মাণকাজ শেষ করে ভবনটি স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হলেও এখনো ক্লিনিকটি চালু হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, চিত্রা নদীর তীরে নির্মিত ক্লিনিকটির প্রধান ফটকে মরিচা ধরা তালা ঝুলছে। বারান্দাজুড়ে ধুলাবালি, ছাদে মাকড়সার জাল এবং চারপাশে আগাছা জমে ভবনটি অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হতে বসেছে।
স্থানীয়রা জানান, নির্মাণের পর কিছুদিন বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও বর্তমানে সেটিও বিচ্ছিন্ন। নিয়মিত ব্যবহার না হওয়ায় ভবনের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে।
পাইকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এনামুল হক বলেন, “এত সুন্দর একটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হলো, কিন্তু কোনো কাজে আসছে না। চালু হলে অন্তত প্রাথমিক চিকিৎসা ও ওষুধ পাওয়া যেত।”
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, একটি কমিউনিটি ক্লিনিকে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি), স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিবার কল্যাণ সহকারীসহ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদ থাকে। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় ক্লিনিকটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।
দরাজহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বলেন, “বিষয়টি একাধিকবার উপজেলা সমন্বয় সভায় উত্থাপন করা হয়েছে। দ্রুত ক্লিনিক চালুর জন্য আবারও জোরালোভাবে বিষয়টি তুলে ধরা হবে।”
বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অরূপ জ্যোতি ঘোষ বলেন, “লোকবল সংকটের কারণে ক্লিনিকটি চালু করা যাচ্ছে না। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।”
এদিকে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল হক জানান, “ভবন নির্মাণ শেষে স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন ক্লিনিক চালুর দায়িত্ব স্বাস্থ্য বিভাগের।”
সরকারি অর্থে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র দীর্ঘদিন অচল থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। তাদের প্রশ্ন, কবে চালু হবে এই ক্লিনিক এবং কবে মিলবে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা?
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।