
নেত্রকোনার মদন উপজেলার মাঘান উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় এক অভিভাবককে লাঞ্ছিত করার লিখিত অভিযোগও উঠেছে।
প্রতিকার চেয়ে রোববার (১৮ জানুয়ারি) জুমন মিয়া নামে এক অভিভাবক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। জুমন মিয়া উপজেলার রানীহালা গ্রামের বাসিন্দা। তার চাচাতো ভাই সোহান মিয়া মাঘান উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
লিখিত অভিযোগ ও শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাঘান উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সরকার নির্ধারিত ফি ২ হাজার ৩১৫ টাকা হলেও প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৫ থেকে ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জুমন মিয়া অভিযোগে বলেন, তার চাচাতো ভাই সোহান মিয়া চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে। গত বৃহস্পতিবার সোহানকে নিয়ে ফরম ফিলাপ করাতে বিদ্যালয়ে গেলে জানতে পারেন, সরকার নির্ধারিত ফি ২ হাজার ৩১৫ টাকা হলেও প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৯ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে সহকারী শিক্ষক আব্দুল গণি পরীক্ষা দিতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, টাকা জমা দেওয়ার রশিদ চাইলে শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে গালাগাল ও অপমান করে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেন। একই সময় আরও দুইজন অভিভাবককেও লাঞ্ছিত করা হয়। এ ঘটনায় তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জুমন মিয়া বলেন, “ফরম ফিলাপ ও কোচিং ফি বাবদ ৯ হাজার টাকা দাবি করা হয়। আমি দিতে অপারগতা জানালে আমাকে গালমন্দ ও লাঞ্ছিত করা হয়। বিচার চেয়ে ইউএনও স্যারের কাছে অভিযোগ দিয়েছি।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষক আব্দুল গণি বলেন,“বাড়তি টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যাদের ফরম ফিলাপ করা হয়েছে তারা অভিযোগ করুক। অন্য কেউ অভিযোগ দিলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম (খোকন) বলেন, “ফরম ফিলাপ বাবদ ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। বাড়তি টাকার বিষয়ে গণি মাস্টার জানেন।”
অভিভাবক লাঞ্ছিত হওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল বারী জানান,“ফরম ফিলাপের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেদবতী মিস্ত্রী বলেন,“আমি জেলায় মিটিংয়ে ছিলাম। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।