আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম উর্ধ্বমুখী

  প্রতিনিধি ৩০ মার্চ ২০২৬ , ১১:১৮:০৭ প্রিন্ট সংস্করণ

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের পঞ্চম সপ্তাহে সোমবার সকালে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যায় এবং এশিয়ায় শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। যেখানে অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ শতাংশেরও বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৫ ডলারের ওপরে পৌঁছায়, আর যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্য হওয়া তেলের দাম প্রায় ৩.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১০৩ ডলারে ওঠে।

এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোও নিম্নমুখী হয়ে গেছে। জাপানের নিক্কেই সূচক ৪.৫ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৪ শতাংশ কমে যায়।

এই পরিস্থিতি এমন সময়ে তৈরি হয়েছে যখন ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সপ্তাহান্তে ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে সংঘাতে যুক্ত হয় এবং ইরান পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকর্তাদের বাসস্থান ও বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা বাড়ানোর হুমকি দেয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি ইরানের তেল দখল করতে পারেন এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপও দখল করতে পারেন।

দ্বীপটির প্রতিরক্ষা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না তাদের কোনো প্রতিরক্ষা আছে। আমরা খুব সহজেই এটি দখল করতে পারি।’

তিনি এই সম্ভাব্য পদক্ষেপকে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে তুলনা করেন, যেখানে জানুয়ারিতে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র দেশটির তেল শিল্প নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা করছে।

সপ্তাহান্তে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার সতর্ক করে বলেন, তাদের বাহিনী ‘মার্কিন সেনাদের জন্য অপেক্ষা করছে’। এর মধ্যেই আরও ৩ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে তেহরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলার হুমকি দেওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, তবে পরিস্থিতির কারণে এর প্রবাহ অনেকাংশে থমকে গেছে, ফলে দাম বেড়েছে।

ম্যাককুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি বাজার বিশেষজ্ঞ শন ফোলি বলেন, সংঘাত প্রশমিত না হলে তেলের দাম আরও বাড়বে বলে তিনি আশা করছেন। তিনি আরও বলেন, হুতিদের হামলার কারণে ইয়েমেনের কাছে বাব আল-মন্দেব প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, এই জলপথ অবরুদ্ধ হলে বিশ্বের আরও প্রায় ১০ শতাংশ তেল সরবরাহ প্রভাবিত হবে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় চাপ সৃষ্টি করবে।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠান লিপো অয়েল অ্যাসোসিয়েটসের অ্যান্ড্রু লিপো বলেন, আগামী সপ্তাহগুলোতে ব্রেন্ট তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৩০ ডলারে পৌঁছাতে পারে, কারণ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে হুমকি অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, তার সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক ধীরগতি দেখা দিতে পারে, কারণ মানুষ জ্বালানি ও খাদ্যের জন্য বেশি ব্যয় করতে গিয়ে আর্থিক চাপে পড়বে।

২৭ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়, তখন ব্রেন্ট তেলের দাম ছিল প্রায় ৭২ ডলার প্রতি ব্যারেল।

১৮ মার্চে এই মানদণ্ডমূলক তেলের দাম ১১৯.৫০ ডলারে পৌঁছায়, যা ২০২২ সালের জুনের পর সর্বোচ্চ।

আরও খবর

Sponsered content