মবতন্ত্রের কবর রচনা করতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল প্রস্তুত রয়েছে বলে জানালেন সংগঠনের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর কাছে স্মারকলিপি জমা দিতে যাওয়ার আগে জাতীয় শহিদ মিনারে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
ছাত্রদল সভাপতি বলেন, ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের নিমিত্তে গতকাল সারারাত তাণ্ডব চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সুস্পষ্ট অবস্থান। আমরা গতকাল প্রথম আলো, ডেইলি স্টারসহ সাংবাদিক নুরুল কবীরের ওপর যে ধরনের নৃশংস হামলা এবং অযাচিতভাবে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে আমরা তার নিন্দা জানাচ্ছি, প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের বিচারের সাথে সাথে এর নেপথ্যে যারা আছে তাদেরও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি সাথে সাথে এই মবতন্ত্র কায়েমের সাথে যারা জড়িত তাদেরও মুখোশ উম্মোচন ও বিচারের আওতায় নিয়ে আসার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে মবতন্ত্রের কবর রচনা করার জন্য আমরা ছাত্রদল সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুত রয়েছি এবং আগামীতেও মবতন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের সর্বাত্মক অবস্থান থাকবে।’
বিকেলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি জমা দেয় ছাত্রদল। স্মারকলিপিতে বলা হয়, ওসমান হাদি একজন আপসহীন তরুণ নেতা ও ফ্যাসিবাদবিরোধী সাংস্কৃতিক সংগ্রামের অগ্রপথিক। তিনি ফ্যাসিস্টদের পরিকল্পনায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এ হত্যাকাণ্ডের পূর্ব প্রস্তুতি ও ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের অভাব, যোগ্যতার ঘাটতি, আন্তরিকতার অভাব এবং ঘটনার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও হত্যাকারী ও নেপথ্যের কুশীলবদের গ্রেফতারে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
এতে উল্লেখ করা হয়, এই হত্যাকাণ্ড শুধমাত্র একটি ব্যক্তির জীবন কেড়ে নেওয়া নয় এটি ফ্যাসিবাদবিরোধী কণ্ঠরোধের এক ভয়ংকর দৃষ্টান্ত, যা গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে। বিশেষত ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-যুব ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের নিরাপত্তা আজ চরম অনিশ্চয়তার মুখে।
স্মারকলিপিতে ছাত্রদল চারটি দাবি জানায়। সেগুলেো হলো-
১) শহিদ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত হত্যাকারী, পরিকল্পনাকারী ও মদদদাতাসহ সকলকে দ্রুত সনাক্ত করে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের আওতায় আনা।
২) হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্র ও সংশ্লিষ্টদের অবহেলা খতিয়ে দেখতে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা।
৩) ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন এবং গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৪) ভবিষ্যতে এ ধরনের রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড রোধে গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।