
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার ৭ নম্বর সফাপুর ইউনিয়নের মমিনপুর মোড়ে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে স্থানীয় উদ্যোগে গড়ে ওঠা মৌসুমী মরিচের হাটটি এ অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রতিবছর জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মরিচের ভরা মৌসুমে কৃষকদের উৎপাদিত কাঁচামরিচ সহজে বাজারজাত করার লক্ষ্যে সাময়িকভাবে এই হাট পরিচালিত হয়।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, দূরের বড় বাজারে না গিয়ে নিজ এলাকার হাটেই সরাসরি মরিচ বিক্রির সুযোগ পাওয়ায় তাদের পরিবহন ব্যয়, সময় ও শ্রম কমেছে। মরিচ দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় এমন একটি কৃষিপণ্য হওয়ায় উৎপাদনের পরপরই বিক্রি করতে পারছেন তারা। এতে কৃষকরা তাৎক্ষণিকভাবে নগদ অর্থও পাচ্ছেন।
প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এ হাটে কৃষকরা ক্ষেত থেকে সংগ্রহ করা কাঁচামরিচ সরাসরি বিক্রি করেন। ভরা মৌসুমে প্রতিদিন প্রায় ৮০ থেকে ৯০ মেট্রিক টন কাঁচামরিচ ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
মাত্র তিন মাসের এই মৌসুমী হাটকে কেন্দ্র করে এলাকায় সৃষ্টি হয় কর্মচাঞ্চল্য। স্থানীয় শত শত শ্রমিক, ভ্যান ও পিকআপচালক, বহনকারী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মৌসুমি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকার ও আড়তদাররা সরাসরি গ্রামে এসে কৃষিপণ্য সংগ্রহ করায় স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
হাটসংশ্লিষ্ট আড়তদারদের দাবি, কৃষকদের কাছ থেকে কোনো ধরনের খাজনা নেওয়া হয় না। হাটের শৃঙ্খলা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কেবল আড়ত পর্যায়ে সীমিত ব্যবস্থাপনা ব্যয় নেওয়া হয়।
হাটটির অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় এটিকে সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত স্থায়ী হাটে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সফাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস এবং মহাদেবপুর উপজেলা ভূমি অফিস প্রয়োজনীয় প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছে।
মহাদেবপুর উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিপণন অধিদপ্তর হাটটির সম্ভাবনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। কৃষকদের স্বার্থ সংরক্ষণে ৪০ কেজিতে এক মণ ওজন নিশ্চিত করা এবং হাটে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ নিয়মিত তদারকি করছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি অনুমোদন দ্রুত সম্পন্ন হলে মমিনপুরের এই মৌসুমী মরিচের হাট উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামরিচ বিপণন কেন্দ্রে পরিণত হবে। এতে হাজারো প্রান্তিক কৃষক আরও বেশি অর্থনৈতিক সুবিধা পাবেন।
এদিকে গত ২৯ জুন বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত "অবৈধ হাটের ফাঁদে মরিচ চাষিরা", "অসাধু চক্রের ফাঁদে কৃষক কাঁদে" এবং "রহস্যজনক ভূমিকায় প্রশাসন" শিরোনামের সংবাদের বিষয়ে হাট পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাদেকুল ইসলাম সাদেক, ক্যাশিয়ার রফিকুল ইসলামসহ একাধিক ব্যক্তি ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন।
তাদের দাবি, প্রকাশিত প্রতিবেদনের কিছু তথ্য বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এতে হাটটির ইতিবাচক দিকগুলো যথাযথভাবে উপস্থাপিত হয়নি। তাদের ভাষ্য, কৃষকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই স্থানীয় উদ্যোগে এই মৌসুমী হাট পরিচালিত হচ্ছে এবং সরকারি অনুমোদনের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে এবং হাটটির উন্নয়ন ও কৃষকদের স্বার্থ নিশ্চিত করবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।