
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়নের বড়রিয়া গ্রামে শুরু হয়েছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ মেলা। সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুর থেকেই মেলাকে ঘিরে এলাকায় সাজসাজ রব দেখা যায়। রাস্তার দুই পাশে হাজার হাজার দর্শনার্থীর ঢল নামে।
সোমবার দুপুর থেকে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয় ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা। মেলা উপলক্ষে রাস্তার দুই পাশে ও মেলাস্থলে দোকানপাট বসেছে। দোকানিরা সাজিয়ে রেখেছেন বাহারি পণ্যের পসরা। পথে পথে নির্মাণ করা হয়েছে রঙিন তোরণ।
প্রতি বছর ২৮শে পৌষ বড়রিয়া গ্রামে এই ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় ও গ্রামীণ মেলার আয়োজন করা হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে তিন দিনের আয়োজন হলেও মেলাটি চলে প্রায় ১০ থেকে ১৫ দিন। দুপুরের পর থেকেই ফরিদপুর, নড়াইল, রাজবাড়ি, গোপালগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে দর্শনার্থীরা মেলায় আসতে শুরু করেন।
বড়রিয়া, বালিদিয়া, ধোঁয়াইল, মহম্মদপুর, ঝামা, চরঝামা, দেউলি, দিগমাঝি, আড়মাঝি ও হরেকৃষ্ণপুরসহ বিভিন্ন এলাকার হাজারো মানুষ দু’চোখ ভরে ঘোড়দৌড় ও মেলা উপভোগ করতে জড়ো হন। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নারী-পুরুষ ও বয়স্কদের অংশগ্রহণে মেলাস্থল হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর।
এ বছর ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৭টি দৌড়ের ঘোড়া অংশ নেয়। মেলা উপলক্ষে এলাকার নতুন জামাইরা বড় বড় মাছ ও মিষ্টি নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন। এ কারণে স্থানীয়দের কাছে এই মেলা ‘জামাই মেলা’ নামেও পরিচিত।
মেলায় বিভিন্ন ধরনের খেলনা, প্রসাধনী, মাছ-মাংস, মিষ্টি, জিলাপি, রসগোল্লাসহ নানা পণ্যের স্টল বসেছে। শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে নাগরদোলা, নৌকা দোলা ও অন্যান্য আনন্দঘন আয়োজন।
মেলার প্রথম দিন ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা শেষে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের পুরস্কৃত করা হয়।
শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী এই মেলা গ্রাম বাংলার একঘেয়ে জীবনে নতুন প্রাণ সঞ্চার করছে। দর্শনার্থী ও আয়োজকদের আশা, এই মেলা আগামী দিনগুলোতেও মানুষের মাঝে আনন্দ ছড়িয়ে দিয়ে ঐতিহ্য ধরে রাখবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।