আমীরে হিযবুল্লাহ ছারছীনা দরবার শরীফের পীর ছাহেব আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতি শাহ্ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন (মা.জি.আ.) বলেছেন, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের সঠিক আকিদা ও আদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে কোরআন-সুন্নাহর শিক্ষা বাস্তবায়ন করতে হবে। ধর্মের নামে প্রচলিত শিরক, বিদআত, কুসংস্কার ও অনৈতিক কর্মকা- পরিহার করে ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য তুলে ধরতে হবে।
তিনি বলেন, মাজারে শায়িত ব্যক্তিরা সম্মানিত আল্লাহওয়ালা ও নেককার মানুষ। তাঁদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন এবং তাঁদের আদর্শ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। তবে মাজারে সিজদা করা, ঢোল-তবলা বাজানো, শায়িত ব্যক্তির কাছে কোনো কিছু চাওয়া কিংবা শরিয়তবিরোধী আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া যাবে না। সব চাওয়া-পাওয়া ও সাহায্য প্রার্থনা করতে হবে একমাত্র মহান আল্লাহর কাছে। নেককার ব্যক্তিদের ওসিলা দিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করা যেতে পারে, কিন্তু তাঁদের সরাসরি আহ্বান করা বা তাঁদের কাছে প্রয়োজন পূরণের প্রার্থনা করা যাবে না। এছাড়াও মাজারে অপ্রয়োজনীয় গম্বুজ নির্মাণসহ ধর্মীয় অনুশাসনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক সকল কার্যক্রম পরিহার করতে হবে।
চট্টগ্রামবাসীর উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম ইসলাম প্রচার, দ্বীনি শিক্ষা ও অসংখ্য আল্লাহওয়ালার স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক জনপদ। এ অঞ্চলের মানুষ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আদর্শ অনুসরণ করে শিরক-বিদআতমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখলে ইনশাআল্লাহ চট্টগ্রাম একদিন আউলিয়াদের রাজধানী হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বাদ আছর চট্টগ্রামের ইপিজেড এলাকায় ব্যারিস্টার সুলতান আহমদ চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত ঈছালে ছাওয়াব ও দোয়ার মাহফিলে প্রধান অতিথির আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
মাহফিলে পীর ছাহেব কেবলার সফরসঙ্গী ও বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরাম ওয়াজ-নসিহত করেন। শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় পীর ছাহেব কেবলা দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।