
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় টানা ঝড়, বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সোনাই নদী ও বিভিন্ন পাহাড়ি ছড়ার পানি বেড়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে। এতে রোপা আমন ধান, সবজি ও মৎস্য খামারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
গত এক সপ্তাহ ধরে উপজেলায় থেমে থেমে বৃষ্টি ও প্রতিদিন কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে নদী ও ছড়াগুলোর পানি বৃদ্ধি পায়। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য এবং রঘুনন্দন পাহাড়ি এলাকায় অতিবৃষ্টির ফলে সোনাই নদীসহ সিমনাছড়া, তেলমাছড়া ও তেলাইন্নাছড়ার পানি বেড়ে গিয়ে কুটানিয়া, দীঘিরপাড়, সুলতানপুর, ভান্ডারুয়া, শাহজাহানপুর, গোয়াসনগর, নাজিরপুর ও জগদীশপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় তীর উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করে।
স্থানীয় কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, নদীর পানি ঢুকে আন্দিউড়া, হাড়িয়া, মীরনগরসহ আশপাশের গ্রামে রোপা আমন ও শত শত পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। আব্দুর রাজ্জাক ও মোশাররফ হোসেন চৌধুরীসহ একাধিক মৎস্যচাষী জানান, তাদের পুকুর পানিতে তলিয়ে গিয়ে সব মাছ ভেসে গেছে।
এদিকে ঝড়ের কারণে গাছপালা উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ লাইনের ক্ষতি হওয়ায় অনেক এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। কোথাও ৩০ থেকে ৩৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই লাইন মেরামতের কাজ চলছে।
শাহজাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. পারভেজ হোসেন চৌধুরী জানান, ইউনিয়নের অধিকাংশ পুকুরের মাছ ভেসে গেছে এবং সবজি ও ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু আসাদ ফরিদুল হক বলেন, ভারি বর্ষণে অনেক খামারের মাছ ভেসে গেছে। মৎস্যচাষিরা ক্ষতি কমাতে চেষ্টা করছেন।
মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ বিন কাশেম জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।