
হবিগঞ্জের মাধবপুরে দায়িত্ব পালনকালে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন বনপ্রহরী শেখ আহম্মদ আলী (৫৪)। এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে মাধবপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আহত বনপ্রহরী বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, রোববার (১৪ জুন) বিকেলে তেলমাছড়া বিট এলাকায় নিয়মিত টহলের সময় বনপ্রহরী শেখ আহম্মদ আলী ও তার সহকর্মী কালাম সুরমা চা-বাগান সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে একদল ব্যক্তি তাদের পথরোধ করে। এ সময় অবৈধভাবে সংগ্রহ করা বনজ ফল ‘তারগোটা’ বহনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে চুনারুঘাট উপজেলার নোয়াবাদ এলাকার আব্দুল খায়ের, আব্দুল আজিজ, আলাউদ্দিনসহ কয়েকজন ব্যক্তি বনকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহম্মদ আলীর মাথা, হাত ও কনুইয়ে গুরুতর জখম হয়।
তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সাতছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, সম্প্রতি একটি সংঘবদ্ধ চক্র সাতছড়ি, তেলমাছড়া ও রেমা-কালেঙ্গা বনাঞ্চলে বনজ সম্পদ চুরি ও পাচারের সঙ্গে জড়িত। বনকর্মীরা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বারবার হামলার শিকার হচ্ছেন। বনজ সম্পদ রক্ষায় টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, “বন ধ্বংস, দখল বা বনজ সম্পদ পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।