
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় হামের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাম রোগীদের জন্য বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং অন্যান্য রোগীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডকে সাময়িকভাবে আইসোলেশন ওয়ার্ড হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার হামের উপসর্গ নিয়ে ওই ওয়ার্ডে ১৮ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। বুধবার দুপুর পর্যন্ত কয়েকজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও নতুন রোগীসহ বর্তমানে ১২ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বয়স্ক উভয় বয়সী রোগী রয়েছেন।
রোগীদের মধ্যে জ্বর, শরীরে লালচে দানা বা র্যাশ, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, সর্দি ও কাশির মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে।
মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইমরুল হাসান জাহাঙ্গীর বলেন, “এসব উপসর্গ থাকলেই হাম নিশ্চিতভাবে বলা যায় না, কারণ অন্যান্য রোগেও একই ধরনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “কোভিড-পরবর্তী সময়ে অনেকের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় শিশু ও বয়স্কদের মধ্যেও সংক্রমণের ঝুঁকি কিছুটা বেড়েছে।”
তিনি জানান, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। তাই আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি। পাশাপাশি শিশুদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী হাম প্রতিরোধী টিকা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে উপজেলার ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী প্রায় ৯৮ দশমিক ০৫ শতাংশ শিশু হাম প্রতিরোধী টিকার আওতায় এসেছে। টিকা নেওয়ার প্রায় এক মাস পর পূর্ণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয় এবং এতে রোগের জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।
স্বাস্থ্য বিভাগ আরও জানায়, মাধবপুরে হামের প্রকোপ তুলনামূলক কম থাকলেও পার্শ্ববর্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর ও বিজয়নগর উপজেলা থেকে চিকিৎসার জন্য রোগীর চাপ বাড়ছে, যা স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।