
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় নাবালক অবস্থায় প্রাপ্ত পৈত্রিক সম্পত্তি জবরদখলের উদ্দেশ্যে ভূয়া দলিল তৈরি এবং একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের কয়েকজনের বিরুদ্ধে। উপজেলার কামারকুড়ি গ্রামের সাড়ে ৬১ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এ বিরোধ চলছে। বর্তমানে বিষয়টি মান্দা সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে বিচারাধীন থাকলেও জমিতে যেতে বাধা, হুমকি এবং সংঘর্ষের আশঙ্কায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কামারকুড়ি মৌজার ৩২ ও ৩৩ নম্বর খতিয়ানের ৭৪, ১৫০, ১৫৮, ১৫৯ ও ১৬৬ নম্বর দাগভুক্ত মোট সাড়ে ৬১ শতক জমির মূল মালিক ছিলেন গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলী। তিনি ১৯৭৯ সালে ৩৫৮ নম্বর নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে তার তিন নাতি মোকছেদ আলী, মোস্তাকিন আলী ও মোস্তফা কামালকে জমিটি দান করেন।
অভিযোগে বলা হয়, তিন ভাই নাবালক থাকা অবস্থায় তাদের পিতা বয়তুল আলী তাদের পক্ষে বেআইনিভাবে ৯৯ শতক জমি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন। এর মধ্যে ১৯৮২ সালের ২৮ জুলাই ৬২০৯, ৬২১০ ও ৯৪৩৮ নম্বর দলিলের মাধ্যমে হাফিজুর রহমানের কাছে জমি হস্তান্তর করা হয়। পরে ১৯৮৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ১০৮৭ নম্বর দলিলের মাধ্যমে তিন ভাই পুনরায় ওই জমির মালিকানা ফিরে পান।
ভুক্তভোগীদের দাবি, একই দিনে (১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৯) একই গ্রামের মৃত জেহের আলীর ছেলে আব্দুল মান্নান ১০৯৬ নম্বর একটি দলিল উপস্থাপন করেন, যেখানে দেখানো হয় নাবালক মোকছেদ আলীর কাছ থেকে সাড়ে ২৮ শতক জমি ক্রয় করা হয়েছে। একজন নাবালক কীভাবে বৈধভাবে জমি বিক্রি করতে পারেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
একইভাবে, ১৯৮৪ সালে আব্দুস সামাদের কাছে হস্তান্তরিত ২৫ শতক জমি তিন ভাই ১৯৯৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ১০৭০ নম্বর দলিলের মাধ্যমে পুনরায় ক্রয় করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, একই তারিখে আব্দুল মান্নান ১০৮৮ নম্বর আরেকটি দলিল তৈরি করেন। এছাড়া জমি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে আরও কয়েকটি ভূয়া দলিল সৃষ্টি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
তাদের দাবি, জাতীয় পরিচয়পত্র ও বয়সসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করলে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট দলিল সম্পাদনের সময় মোকছেদ আলী, মোস্তাকিন আলী ও মোস্তফা কামাল কেউই সাবালক ছিলেন না। এ ঘটনায় আব্দুল মান্নানের পাশাপাশি আফসার আলী, মোবারক আলী ও মোয়াজ্জেম আলীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে প্রতিপক্ষ আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে মান্দা সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে একটি চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মামলা (মামলা নং-১১৭) দায়ের করেছেন। ওই মামলায় মোস্তফা মণ্ডল ওরফে মোস্তফা কামাল এবং মোকছেদ আলীর স্ত্রী নুরুন্নাহার বেগমকে বিবাদী করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, বর্তমানে বিরোধপূর্ণ জমিগুলো তাদের দখলে থাকলেও আদালতে মামলা চলমান থাকার অজুহাতে প্রতিপক্ষ তাদের জমিতে যেতে বাধা দিচ্ছে এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করছে।
তারা আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে চলমান মামলা, অব্যাহত হুমকি ও হয়রানির কারণে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। যেকোনো সময় অপ্রীতিকর বা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন তারা। বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং তাদের জানমাল ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।