
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় ভুয়া শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে কার্যালয়ে ঢুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নির্বাচন কর্মকর্তা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
ঘটনাটি ঘটে গত ৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) দুপুরে। মান্দা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সাঈফ আহমেদ নাসিম জিডিতে উল্লেখ করেন, দুপুর ৩টার দিকে সেবা প্রত্যাশী এক নারী তাঁর কক্ষে ঢুকে আবেদন বাতিলের জন্য তাঁকেই দায়ী করে গালিগালাজ করেন। এক পর্যায়ে ওই নারী হুমকি দিয়ে বলেন, “আপনার চাকরি খেয়ে ফেলব, এই উপজেলা থেকে তাড়িয়ে দেব।”
পরে অফিস সহকারীর মাধ্যমে জানা যায়, ওই নারীর নাম আমেনা খাতুন (এনআইডি নং ৪১৬৩০১১০৫১), পিতা জমিল প্রামাণিক, স্বামী আব্দুল জব্বার, ঠিকানা গ্রাম পানিয়াল, ইউনিয়ন তেতুলিয়া, উপজেলা মান্দা, জেলা নওগাঁ।
নির্বাচন কর্মকর্তা জানান, আমেনা খাতুন ইতোমধ্যে তিনবার বয়স ও পিতার নাম সংশোধনের আবেদন করেছেন। আগের দুটি আবেদন যথাযথ প্রমাণ না থাকায় বাতিল হয়। সর্বশেষ আবেদনের তদন্ত শেষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অনুমোদন না দেওয়ায় সেটিও কার্যকর হয়নি।
জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আবেদনকারী ৫ম শ্রেণি পাস হলেও ৮ম শ্রেণি পাসের ভুয়া সনদ দিয়ে পানিয়াল আদর্শ কলেজে ‘আয়া’ পদে চাকরি নিয়েছেন। এনআইডিতে বয়স কমিয়ে বর্তমান বয়সের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনার চেষ্টা করতে গিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, বয়স কমানো হলে কাগজে-কলমে তিনি নিজের সন্তানদের চেয়ে ছোট হয়ে পড়েন, যা আইন ও বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ঘটনার সময় অফিসে সহকারী নির্বাচন কর্মকর্তা ছাড়াও দুইজন সেবা প্রার্থী—শিপন ও খোকন উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের সামনেই এ লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেন কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান বলেন, “নির্বাচন কর্মকর্তা একটি জিডি করেছেন। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।”
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।