
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে দৈনিক মজুরিভিত্তিক লেবার কন্ট্রাক্টিং সোসাইটি (এলসিএস) শ্রমিক নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও এলজিইডি কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্য লটারির মাধ্যমে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ার দাবি করলেও, একদল আবেদনকারী অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, এলসিএস শ্রমিক নিয়োগের জন্য ১৩৭ জন নারী আবেদন করেন। যাচাই-বাছাই শেষে ৫৪টি আবেদন বৈধ ঘোষণা করা হয়। গত ৯ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সভাকক্ষে প্রকাশ্য লটারির মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ১৬ জনকে নির্বাচন করা হয়।
উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাদের বলেন, আবেদনকারীদের বয়স, নির্ধারিত এলাকার দূরত্ব এবং অন্যান্য শর্ত যাচাই করে বৈধ আবেদনগুলো নির্বাচন করা হয়েছে। পরে নোটিশ বোর্ডে প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী সবার উপস্থিতিতে লটারির আয়োজন করা হয়।
তিনি দাবি করেন, “পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা হয়েছে। একটি স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, লটারির সময় তিনি নিজে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশলী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সবার সামনে লটারির কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
তবে প্রশাসনের এ দাবির বিপরীতে রোববার উপজেলার প্রসাদপুর বাজারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন কয়েকজন আবেদনকারী। তাঁদের অভিযোগ, অনেক আবেদনকারীকে লটারির সময় সম্পর্কে ব্যক্তিগতভাবে অবহিত করা হয়নি। পাশাপাশি অর্থের বিনিময়ে পছন্দের ব্যক্তিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আবেদনকারী আলতা বানু অভিযোগ করেন, টাকা দিতে না পারায় তাঁর নাম লটারিতে ওঠেনি। আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা মৌসুমী আক্তার দাবি করেন, প্রথমে তাঁকে মুঠোফোনে নির্বাচিত হওয়ার কথা জানানো হলেও পরে প্রকাশিত তালিকায় তাঁর নাম পাওয়া যায়নি। তাঁর ভাষ্য, অর্থ দিতে না পারায় শেষ পর্যন্ত তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
আরেক আবেদনকারী নাসিমা বেগমও অর্থের বিনিময়ে পছন্দের প্রার্থীদের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ করেন। তবে এসব অভিযোগ নাকচ করে উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাদের বলেন, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অর্থ লেনদেন বা অনিয়মের ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে নিয়োগপ্রক্রিয়া বাতিল করে পুনরায় স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে বাছাইয়ের দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারী আবেদনকারীরা।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে জেলা এলজিইডি বা ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্তের কোনো সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।