
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় নারী উন্নয়ন ফোরামের নামে বরাদ্দ পাওয়া ১০ লাখ টাকা প্রকল্প বাস্তবায়ন ছাড়াই আত্মসাৎ করা হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। কাগজপত্রে সেলাই মেশিন ও গবাদি পশু বিতরণ দেখানো হলেও প্রকল্পের ৪২ জন সদস্য জানিয়েছেন, তারা কোনো উপকরণ পাননি; এমনকি বরাদ্দের বিষয়টিও জানতেন না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একের পর এক ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে সরকারি অর্থ লুটপাটের ঘটনা বাড়ছে। এ নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
উপজেলা প্রশাসন ও এলজিইডির নথিতে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এডিপির আওতায় নারী উন্নয়ন কার্যক্রমে দুটি প্রকল্পে বরাদ্দ দেখানো হয়েছে—সেলাই মেশিন বিতরণে ৫ লাখ টাকা এবং গবাদি পশু বিতরণে আরও ৫ লাখ টাকা। এলজিইডির তালিকায় প্রকল্প দুটি ১৪৮ ও ১৪৯ নম্বরে অন্তর্ভুক্ত এবং ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে উপজেলা পরিষদের সভায় অনুমোদিত।
কিন্তু সরেজমিনে দেখা যায়, নারী উন্নয়ন ফোরামের সদস্যরা কেউই কোনো উপকরণ পাননি। বরাদ্দের কথা প্রথম জানতে পেরে ২৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথীর কাছে মৌখিক অভিযোগ জানান।
নুরুল্যাবাদ ইউপির নারী সদস্য প্রীতি রাণী বলেন, “ইউএনও ম্যাডাম জানিয়েছেন, গত ৫ আগস্টের পর থেকে নারী উন্নয়ন ফোরামের কোনো অস্তিত্ব নেই। তাহলে এই বরাদ্দ এলো কোথা থেকে?”
ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও পরানপুর ইউপির সদস্য কমলা বেগম বলেন, “২০২৪-২৫ অর্থবছরে ফোরামের মাধ্যমে কিছুই দেওয়া হয়নি। বরাদ্দ ছিল কি না, তাও জানানো হয়নি।”
কসব ইউপির সদস্য আঞ্জুয়ারা ও সানোয়ারা বেগম জানান, গত ৫ আগস্টের পর থেকে ফোরামের সভাপতির পদ শূন্য থাকায় কার্যক্রম বন্ধ ছিল। বরাদ্দ বা বিতরণ—কিছুই জানানো হয়নি।
নুরুল্যাবাদ ইউপির সদস্য আম্বিয়া আক্তার বলেন, “গত বছরের ৫ আগস্টের আগে বরাদ্দ আসার সম্ভাবনা শুনেছিলাম। কিন্তু কাউকে কিছু দেওয়া হয়নি। কারা সুবিধা নিয়েছে, জানা নেই।”
উপজেলা প্রকৌশলী আবু সায়েদ বলেন, “আমি যোগদানের আগেই কাজগুলো সম্পন্ন হয়েছে। বিতরণ হয়েছে কি না, সেটি আমার জানা নেই।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, “প্রকল্প তালিকায় থাকলে বাস্তবায়নের কথা। বিষয়টি আগে জানতাম না। এখন খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।