নওগাঁর মান্দা উপজেলায় উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত পারিবারিক জমি জবরদখলের অভিযোগে পাঁচ ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন হামিদুল প্রামানিক। দীর্ঘদিন ভোগদখল করা জমির ওপর ‘ভুয়া কবলা দলিল’ দেখিয়ে মালিকানা দাবি ও দখলের চেষ্টা চালানোয় তিনি আইনের আশ্রয় নেন।
মামলাটি দায়ের করা হয়েছে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩–এর ৪(১)(ক), ৫(১)(ক, খ, ঘ) ও ১৬ ধারায়। মামলা নং—১০৩৯ সি/২০২৫ (মান্দা)। বর্তমানে এটি তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বাঁশবাড়িয়া মৌজার আরএস ১১০ নং খতিয়ানভুক্ত দাগ নং ৩৮৫, ৩৮৬, ৩৮৭ ও ৩৮৮ মিলিয়ে মোট ৩৫ শতক জমি বহু প্রজন্ম ধরে বাদী পক্ষের দখলে রয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে রয়েছে প্রায় ১৭.৫ ডেসিমেল ভিটাজমি।
জমিটির ইতিহাসে বলা হয়, প্রায় শতবর্ষ আগে বেকুল প্রামানিক ও তার সহউত্তরাধিকারীরা জমিটি ভোগদখল করতেন। পরে বেকুল প্রামানিক মারা গেলে তার দুই কন্যা আমেনা ও খায়রুন এবং ভাই শুকুর আলী উত্তরাধিকার হন। শুকুর আলীর মৃত্যুর পর তার দুই ছেলে মেহের আলী ও জেহের আলী মালিক হন। মেহের আলীর মৃত্যুর পর তার তিন ছেলে হামিদুল (বাদী), বেলাল ও হেলাল আইনানুগভাবে জমির উত্তরাধিকারী হয়ে ভোগদখল বজায় রাখেন।
বাদীর অভিযোগ, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ রোববার সকাল ১০টার দিকে তিনি স্থানীয় কয়েকজনকে নিয়ে জমিতে কাজ করছিলেন। এ সময় সামাদ, জলিল, মিলন খাঁ, রেজাউল ও দেলেয়ারসহ কয়েকজন সংঘবদ্ধভাবে জমিতে প্রবেশ করে ভয়ভীতি দেখান। তারা দাবি করেন যে জমিটি তাদের মা আমেনা খাতুনের নামে রেজিস্ট্রি করা।
এ সময় আসামিরা ১৯৭৪ সালের ৪৭৩ নং ‘কবলা দলিলের’ একটি ফটোকপি দেখিয়ে দাবি করেন, ওই দলিলেই বেকুল প্রামানিক জমিটি তাদের মা আমেনাকে বিক্রি করেছিলেন। কিন্তু দলিলের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে আসামিরা ক্ষুব্ধ হয়ে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা চালায় বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে।
হামিদুল প্রামানিক জানান, ঘটনার পর তিনি মহাদেবপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হন যে বেকুল প্রামানিক কখনোই এই জমি বিক্রি করেননি। তার দাবি, “জমির দাম বেড়ে যাওয়ায় একটি প্রতারক চক্রের সহায়তায় ভুয়া দলিল তৈরি করা হয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কুচক্রী মহলের ইন্ধনে আসামিরা বারবার দখলের চেষ্টা করছে এবং বাধা দিলে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে।
মামলায় মোট সাতজন স্থানীয় ব্যক্তিকে সাক্ষী করা হয়েছে। জমির দাগ, খতিয়ান, পরিমাণসহ পূর্ণাঙ্গ তপশীল আদালতে সংযুক্ত করেছেন বাদী।
স্থানীয় কয়েকজন জানান, জমিটি বহু বছর ধরে বাদী পক্ষের ভোগদখলে রয়েছে। একজন প্রতিবেশী বলেন, “মেহের আলীর ছেলে হামিদুল দীর্ঘদিন ধরে এই জমিতে আছেন। আগে কোনো ঝামেলা দেখি নাই।”
মামলাটি আদালত আমলে নিয়েছেন। শুনানি শেষে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।