
মা নেই, তবুও তিনি যেন আছেন-মেয়ের জীবনের সবচেয়ে বিশেষ দিনে। বলিউড প্রযোজক বনি কাপুরের মেয়ে অনশুলা কাপুরের বিয়ের পোশাক যেন সেই গল্পই বলে। প্রয়াত মায়ের ৪২ বছর পুরোনো সোনালি টিস্যু ও জারদৌজি দোপাট্টাকে নিজের বিয়ের সাজের অংশ করে নতুন জীবনের সূচনা করেছেন তিনি। চার বছরের প্রেমের পর দীর্ঘদিনের সঙ্গী রোহান ঠাক্কারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন অনশুলা। গত সোমবার মুম্বাইয়ের তাজ ল্যান্ডস এন্ডে পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতে হিন্দু রীতিতে সম্পন্ন হয় তাদের বিয়ে। তারকা পরিবারের এই বিয়েতে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে অনশুলার আবেগঘন বিয়ের সাজ, যা শুধু ফ্যাশনপ্রেমীদেরই নয়, স্পর্শ করেছে অসংখ্য মানুষের হৃদয়।
অনশুলার জন্য বিশেষভাবে বিয়ের পোশাকটি তৈরি করেন খ্যাতনামা ডিজাইনার তরুণ তাহিলিয়ানি। পারিবারিক ঐতিহ্য, ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের কারুশিল্প এবং আধুনিক কুতুর নকশার সমন্বয়ে তৈরি পোশাকটি শুধু নান্দনিকই নয়, ছিল গভীর আবেগেরও প্রতীক।

গত ৭ জুলাই ইনস্টাগ্রামে বিয়ের একগুচ্ছ ছবি প্রকাশ করে নিজের বধূবেশের পেছনের গল্পও শেয়ার করেন অনশুলা। তিনি লেখেন, ‘বিয়ের দিন কনে হিসেবে আমি শুধু একটি জিনিসই সঙ্গে রাখতে চেয়েছিলাম আমার মায়ের ৪২ বছর পুরোনো সোনালি টিস্যু ও জারদৌজি দোপাট্টা। বাকি সবকিছুই সেটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে।’
আরও একটি আবেগঘন বার্তায় তিনি বলেন, ‘যে দিনে আমি একটি নতুন পরিবারের অংশ হলাম, সেদিন সেই পরিবারটির ভালোবাসায় নিজেকে জড়িয়ে রাখা স্বাভাবিক মনে হয়েছে, যে পরিবার আমাকে প্রথমে বড় করে তুলেছে।’
তরুণ তাহিলিয়ানি, মোহিত রাই ও রুচি কৃষ্ণ স্টাইলসের যৌথ পরিকল্পনায় তৈরি এই বিয়ের লেহঙ্গায় ছিল সূক্ষ্ম কাশিদা সূচিশিল্প, সমৃদ্ধ জরি কাজ এবং ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় বস্ত্রশিল্প থেকে অনুপ্রাণিত নকশা। পাশাপাশি শ্বশুরবাড়ির ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান জানিয়ে যুক্ত করা হয় বান্ধনি ঘরচোলা দোপাট্টা, আর নিজের পাঞ্জাবি শিকড়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রাখা হয় ফুলকারি বর্ডার।
লেহেঙ্গাটি তৈরি করা হয়েছিল অ্যান্টিক রোজ, ব্লাশ পিংক ও মৃদু সোনালি রঙের মেলবন্ধনে। প্রশস্ত গোলাপি-সোনালি কারুকাজ করা বর্ডার, অ্যান্টিক গোল্ড প্যানেল এবং নিখুঁত হাতে বোনা নকশা পোশাকটিতে এনে দিয়েছে রাজকীয় আভিজাত্য ও ভিনটেজ আবেদন।

এর সঙ্গে মানানসই ব্লাউজে ছিল হৃদয়াকৃতি নেকলাইন, ঘন সূচিকর্ম ও ধাতব সুতোয় করা সূক্ষ্ম কারুকাজ। মাথা ও কাঁধজুড়ে ছিল মায়ের স্মৃতিবিজড়িত সেই সোনালি টিস্যু দোপাট্টা, যা জারদৌজি নকশায় আরও অনন্য হয়ে উঠেছিল। পাশাপাশি শ্বশুরবাড়ির ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি পরেছিলেন আরেকটি বান্ধনি ঘরচোলা দোপাট্টা।
কনেসাজ সম্পূর্ণ করতে অনশুলা বেছে নিয়েছিলেন একাধিক স্তরের পোলকি ও পান্নাখচিত নেকলেস, ভারী চোকার, লম্বা হার, মানানসই দুল, মাঙ্গটিকা, চুড়ি, আংটি, অলংকৃত কালিরা এবং ঐতিহ্যবাহী কোমরবন্ধ। প্রতিটি অলংকারই তার সাজে যোগ করেছে রাজকীয় ঔজ্জ্বল্য।
সাজসজ্জার ক্ষেত্রেও ছিল পরিমিত সৌন্দর্যের ছোঁয়া। মাঝখানে সিঁথি করে খোঁপায় বাঁধা চুল, নরম স্মোকি আই মেকআপ, নিখুঁতভাবে সাজানো ভ্রু, হালকা গোলাপি ব্লাশ ও নিউড লিপস্টিক সব মিলিয়ে পোশাকের সূক্ষ্ম কারুকাজই হয়ে উঠেছিল পুরো বিয়ের মূল আকর্ষণ। তবে এই সাজের সবচেয়ে মূল্যবান অলংকার ছিল প্রয়াত মায়ের স্মৃতিবিজড়িত সেই ৪২ বছর পুরোনো দোপাট্টা, যা অনশুলার বিয়েকে শুধু রাজকীয় নয়, একই সঙ্গে গভীর আবেগ ও ভালোবাসার এক অনন্য গল্পে পরিণত করেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।